Image description
 

আগামী ১২ ফেব্রয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বিএনপি সব ধরণের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এরই অংশ হিসেবে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মিত্রদের সমঝোতার ভিত্তিতে ১৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছে দলটি। মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনের মধ্যে ৮টি আসনে এখনও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বহাল আছেন। এর ফলে সেসব আসনে মিত্রদলের প্রার্থীদের জয়লাভ অনেকটা কঠিন হতে পারে। শেষ পর্যন্ত মিত্র প্রার্থীরা ফল ঘরে তুলতে না পারলেও তাদের মূল্যায়ন করবে বিএনপি। নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মিত্রদের জাতীয় সরকারে নয়তো উচ্চকক্ষে স্থান দিবে। দলটির হাই কমান্ড ইতোমধ্যে মিত্রদের এমন আশ্বাস দিয়ে রেখেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান শীর্ষনিউজ ডটকমকে বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। দলে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের যুগপৎ মিত্রদের সমঝোতার ভিত্তিতে আসন ছাড়তে হয়েছে। এমতাবস্থায় দলের অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় এখনও শেষ হয়নি। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএনপির বাকী বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যাবেন।

সেলিমা রহমান আরও জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিকবার বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে বিএনপি জাতীয় সরকার গঠন করবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই ঐক্যমত্যের সরকার গঠন করা হবে। সুতরাং নির্বাচনে মিত্রদলের প্রার্থীরা পরাজিত হলেও বিএনপি তাদেরকে বিভিন্নভাবে মূল্যায়িত করবে। এমনকি উচ্চকক্ষেও তারা স্থান পেতে পারেন। কারণ, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে শরিকদলের অবদান মনে রাখতেই হবে।

এদিকে মিত্রদলের একাধিক শীর্ষ নেতা এরই মধ্যে বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূলত জয়ের নিশ্চিত করতেই এসব নেতারা নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। মিত্রদের ছেড়ে দেওয়া ৮টি আসনে বিএনপির পদে থাকা নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যদিও বিএনপি তাদের দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এমতাবস্থায় বহিষ্কৃত নেতারা ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকায় কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছেন শরিকরা।

সেই ২০২৩ সাল থেকে বিএনপি বারবার বলেছে, রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ফ্যাসিস্টবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করবে। রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফায়ও বিষয়টি উল্লেখ আছে। ৩১ দফায় বলা আছে, বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবীসহ অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠন করা হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সরকারের কথা বলেছেন। সেখানে কারা, কিসের ভিত্তিতে স্থান পাবেন তাও বিএনপি নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠক ও আসন সমঝোতা ইস্যুতে আলোচনার সময়ে মনোনয়ন বঞ্চিত মিত্রদের জাতীয় সরকার ও উচ্চকক্ষে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিএনপি। সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত মিত্র নেতারা বিএনপি হাইকমান্ডের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন। সেখানেও বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিতদের নানা সুখবর দেওয়া হয়েছে।

শীর্ষনিউজ