Image description
 

গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করা দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প কয়েক মাস ধরেই দাবি করে আসছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসা উচিত। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি বলেন, এর চেয়ে কম কিছু ‘গ্রহণযোগ্য নয়।’ন্যাটোভুক্ত দেশ ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ন্যাটো জোটের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করবে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

শুক্রবার স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি কোনো দেশ গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে আমি তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি। কারণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। তিনি এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগেও তিনি ওষুধের দাম কমানোর পরিকল্পনায় অন্য দেশগুলোকে চাপ দিতে শুল্ক ব্যবহারের কথা বলেছেন।

 
 

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে এই প্রথমবারট্রাম্প সরাসরি শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন। তবে কোন কোন দেশকে লক্ষ্য করা হবে বা কোন আইনি ক্ষমতার আওতায় শুল্ক বসানো হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।

 

গ্রিনল্যান্ডে তেল, গ্যাস ও বিরল খনিজসহ বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ব্যবস্থা ও নৌযান নজরদারির জন্য দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার বিরোধিতা শুধু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই নয়, আরও কয়েকটি দেশ করেছে। সিএনএনের এক জরিপ অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার পক্ষে মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন জানিয়েছেন।

সিএনএন জানিয়েছে, ন্যাটোর সবচেয়ে শক্তিশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরেক সদস্য দেশের ভূখণ্ড কেনা বা দখলের প্রস্তাব ইউরোপের কয়েক দশক পুরোনো নিরাপত্তা জোটকে সংকটে ফেলেছে। ট্রাম্পের বক্তব্য ইউরোপজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে কোনো হামলা কার্যত ন্যাটোর সমাপ্তি ডেকে আনবে। বুধবার দেশটি ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এরপর ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেন জানায়, তারা এই সপ্তাহেই গ্রিনল্যান্ডে সামরিক সদস্য মোতায়েন করছে। কানাডা ও ফ্রান্স আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে কনস্যুলেট খোলার পরিকল্পনাও জানিয়েছে।