ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে চরমোনাই পীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল সোয়া ৩টায় ঢাকার পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোট থেকে বিচ্ছেদের এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র কাঙ্খিত আসন না পাওয়ার বিষয়টি নয়, যে উদ্দেশ্যে জোট গঠিত হয়েছিল সেখান থেকে জোটের বড় দল জামায়াতে ইসলামী সরে আসার কারণে আমরা তাদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় থাকছি না।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশে সুশাসন ও ইসলামী ব্যবস্থা কায়েমে ইসলামী দলগুলো ভোট একটি বাক্সে যাবে। ইসলামী দলগুলোর ‘এক বাক্স’ ভোটের নীতি প্রথম আমরা ঘোষণা করেছিলাম। যাতে পরে জামায়াত ইসলামী যুক্ত হয়।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, দলটি শেষ সময়ে এসে নতুন তিনটি দল যুক্ত করাসহ অনেক সিদ্ধান্ত কাউকে না জানিয়ে নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে কিছু কিছু বিষয় না জানানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে ইনসাফ বাদ দিয়ে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সার্বিক প্রস্তুতি বিবেচনায় এনে দলের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের পরামর্শ নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১১ দলের নির্বাচনি আসন সমঝোতা থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। আমরা একক নির্বাচন করব। ২৭০ আসনে আমাদের প্রার্থীরা মনোনয়ন কিনলেও দুজনের বাতিল হয়েছে। এখন ২৬৮ আসনে আমাদের প্রার্থীরা এককভাবে ভোট করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে দলটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে ১১ দলের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন ডেকে চূড়ান্ত আসন সমঝোতা ঘোষণা করা হয়। সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তারপরও দলটির জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়।
জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দুই পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সর্বশেষ চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
একাধিক সূত্র বলছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চাওয়া ছিল বেশ অনেক আসন। শেষ পর্যন্ত জামায়াত ৪৫টি আসন ইসলামী আন্দোলনকে দিতে রাজি হয়। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের সর্বশেষ চাওয়া ৬০টি আসন।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সমন্বয়ে ৮ দল বেশ আগে থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ নানা ইস্যুতে একসাথে আন্দোলন করে আসছিল।
সবশেষ গত ২৮ ডিসেম্বর তাদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হয়। এরপর থেকে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের দূরত্ব শুরু হয়।