Image description
 

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং নেতৃত্বের চাবিকাঠি এখন অনেকটাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। 

 

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত এই দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিতে বর্তমানে দুই নারী নেত্রী—মারিয়া করিনা মাচাদো এবং ডেলসি রদ্রিগেজ এক তীব্র লড়াইয়ে নেমেছেন। তাদের প্রধান লক্ষ্য একদিকে দেশের ক্ষমতা নিজেদের অনুকূলে রাখা এবং অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থন আদায় করা।

বিরোধীদলীয় নেতা এবং নোবেলজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো দীর্ঘ দিন ধরে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াই করে আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর মাচাদো আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। 

রদ্রিগেজকে মাদুরোর কট্টর সমর্থক মনে করা হলেও বর্তমানে তাকে ওয়াশিংটনকে সন্তুষ্ট রাখা এবং দেশে মাদুরো অনুগতদের সামলানোর মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

 

কারাকাসে সেই প্রাণঘাতী অভিযানের নির্দেশ দাতা ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ভেনেজুয়েলার ভাগ্যবিধাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। যদিও তিনি সরাসরি দ্বিতীয় কোনো হামলার নির্দেশ দেননি, তবে স্থলভাগের মাদকচক্র নির্মূলে সামরিক অভিযানের শঙ্কা এবং ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি দেশটির ওপর চাপ বজায় রেখেছে। 

সমীকরণটি বেশ জটিল, কারণ ট্রাম্প একদিকে রদ্রিগেজের প্রশংসা করছেন, আবার অন্যদিকে মাচাদোর অনেক প্রভাবশালী সমর্থক তার প্রশাসনেই রয়েছেন। ট্রাম্পের অতীত কূটনীতি বলে যে তিনি যেকোনো সময় তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন।

দুই নেত্রীই ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ হয়েছে এবং ট্রাম্প তাকে 'চমৎকার মানুষ' বলে অভিহিত করেছেন। 

অন্যদিকে, মাচাদো সরাসরি ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। মাচাদো তার নোবেল ট্রাম্পকে হস্তান্তর করে দিলেও ট্রাম্প তাকে এখনো পূর্ণ সমর্থন দেননি, বরং মাচাদোর জনসমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ডেলসি রদ্রিগেজও চাপে পড়ে তার কৌশল পরিবর্তন করেছেন। একদিকে তিনি মার্কিন অভিযানের নিন্দা জানাচ্ছেন, অন্যদিকে শান্তির বার্তা দিতে মার্কিন বন্দীদের মুক্তি দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেলের বাণিজ্য বাড়ানোর প্রস্তাবও দিচ্ছেন তিনি। 

২০১৭ সাল থেকেই রদ্রিগেজ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তেলের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। যা বর্তমান হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের কাছে তাকে একজন ‘বাস্তববাদী’ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রদ্রিগেজ বর্তমানে এক কঠিন দ্বিমুখী খেলা খেলছেন যেখানে তাকে একই সাথে ট্রাম্প প্রশাসন এবং দেশের ভেতরের মাদুরোপন্থী সেনাবাহিনী—উভয়পক্ষকেই সন্তুষ্ট রাখতে হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন