ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। কিন্তু আসন্ন সেই নির্বাচন নিয়ে তিনি জান-মালের ক্ষতির আশঙ্কা করেছেন। পাশাপাশি নির্বাচনে সাধারণ মানুষ তাকে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কালবেলার প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে তিনি এসব কথা জানান।
গিয়াস উদ্দিন তাহেরী বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। সেটা নিয়ে ভয়ে আছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আমার সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে, সেটা নিয়েও আমি শঙ্কিত। আসন্ন নির্বাচনে জান-মালের ক্ষতির আশঙ্কা করছি।
নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আগামী ২২ জানুয়ারি শুরু হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় নামলেই বুঝতে পারব নির্বাচনী মাঠ সমান আছে নাকি কোনো দিকে হেলে পড়েছে।
হলফনামা নিয়ে তাহেরী বলেন, আমার জমানো টাকা থেকে সুদ আসছে সেটা আমি উল্লেখ করেছি। কিন্তু সেই টাকা আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করি না। স্ত্রীর নামে নয়, কেন নিজের নামে ৩১ ভরি স্বর্ণ আছে প্রশ্নে তিনি বলেন, এই ৩১ ভরি স্বর্ণ আমি বিভিন্ন সময় উপহার পেয়েছি এবং আমার স্ত্রী এবং মেয়েদের জন্য আমার নামে ক্রয় করেছি। সকল সম্পত্তি নিজের নামের কারণ জিজ্ঞেস করলে প্রতিবেদককে বলেন, পরিবারের প্রধান হিসাবেই সকল সম্পত্তি আমার নামে ক্রয় করেছি।
সবশেষে ইসলামী ফ্রন্টের এই প্রার্থী বলেন, সাধারণ মানুষ আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আশা করি উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের ভোটেই আমি এমপি হিসাবে জয়ী হবো।
হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। মোমবাতি প্রতীকে তিনি নির্বাচন করবেন। বৃহত্তর সুন্নিজোট তাকে সমর্থন দিয়েছেন। তাহেরির বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ভাজরা গ্রামে। হবিগঞ্জের মাধবপুরে তার শ্বশুরবাড়ি। সেই সূত্রে তিনি ওই আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তাহেরির বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। সবই চলমান। প্রতিটি মামলাই দায়ের হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর।
তাহেরির পেশা ব্যবসা আর স্ত্রী গৃহিণী। সম্পদ যা আছে সবই নিজের নামে। স্ত্রীর নামে কিছুই নেই। এমনকি স্বর্ণ ও গহনাও নেই। তবে নিজের নামে স্বর্ণ আছে ৩১ ভরি। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।