Image description

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাকসু নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে আয়োজনের দাবিতে প্রার্থীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়, যেখানে উপ-উপাচার্যের শর্ত তিনটি প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজনের ওপর জোর দেন।

এর আগে ইসি কর্তৃক নির্বাচন স্থগিতের খবরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিন শর্তে নির্বাচনের অনুমতি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম। শর্ত তিনটি হলো নির্বাচনকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে না এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। এসব শর্তে প্রার্থীদের লিখিত স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে। তবেই শাকসু নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের আপত্তি থাকবে না বলে জানানো হয়।

তবে উপ-উপাচার্যের এমন শর্তকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে নির্ধারিত সময়ে শাকসুর দাবিতে স্মারকলিপি দেন তারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনকে  কেন্দ্র করে আসন্ন শাকসু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে মনে করা হচ্ছে, শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। আমরা শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীগণ মনে করি যে, জাতীয় নির্বাচনের সাথে শাকসু নির্বাচনের কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা ও সাংঘর্ষিকতা নেই। আসন্ন শাকসু নির্বাচন কোনভাবেই জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করে না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা চাওয়া কোনভাবেই সম্মানজনক না। আমরা এই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করি। এজন্য আমরা বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোন বাধা নেই। সুতরাং, আমরা পূর্বনির্ধারিত সময়ে যে কোন কর্তৃপক্ষ থেকে নতুন কোন শর্ত আরোপ ছাড়াই শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মুকাদ্দেছ বলেন, ‘আমরা শতভাগ প্রস্তুত। আমাদের কাজ বন্ধ করিনি। আমরা চাই যথাসময়ে নির্বাচন দিতে। সকলের সহযোগিতা পেলে আশাকরি নির্ধারিত সময়েই শাকসু হবে।’

উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ সকল প্রকার নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ঘোষণার প্রতিবাদে ১২ তারিখ রাতভর বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী দেখা করলে কমিশন নির্বাচনের আশ্বাস দেন।