Image description
 

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় একাধিক নারীকে বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে রনগোপালদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুজ্জামান নওফেলের বিরুদ্ধে। স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে দুই নারী সন্তানসহ ইউপি সদস্যের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান নওফেল ওই ইউনিয়নের দেলোয়ার রাড়ির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন ও পাঁচ বছর আগে আসাদুজ্জামান নওফেল ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার এক নারী এবং বরিশালের কদমতলী থানার আরেক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর নওফেল বিভিন্ন সময় তাদের বাবার বাড়ি ও ভাড়া বাসায় রেখে আসতেন।

 

ভুক্তভোগী নারীরা জানান, দীর্ঘ এক বছর ধরে নওফেল তাদের কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় গত রোববার তারা স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে নিজ নিজ সন্তান নিয়ে নওফেলের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের অনুপস্থিতিতে নওফেল গলাচিপা উপজেলার আরেক নারীকে স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলেছেন।

 

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে নওফেল আমাদের তাড়িয়ে দেন। এ সময় স্থানীয়রা আমাদের রক্ষা করেন। পরে দশমিনা থানা পুলিশ ও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তার স্বার্থে ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

 

নারীরা অভিযোগ করে জানান, রেজিস্ট্রি কাবিননামা অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়েছে এবং তাদের গর্ভে নওফেলের সন্তান জন্ম নিয়েছে। তিনি নেশাগ্রস্ত এবং একের পর এক নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে পরে তালাক দেন। এর আগেও প্রায় ২০ জন নারীকে বিয়ে করে তালাক দিয়েছেন। নিজেদের স্বামীর পরিচয় ও সন্তানের বাবার স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে ন্যায়বিচার না পেলে আইনিব্যবস্থা নেব।

আসাদুজ্জামান নওফেলের বাবা দেলোয়ার রাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তারা জানান, তিনি বলেছেন, এর আগেও অনেক নারী এসেছিল, তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান নওফেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি পারিবারিক বিষয়, পারিবারিকভাবেই সমাধানের চেষ্টা চলছে।

রনগোপালদী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করি। পরে থানা পুলিশ আসে। ভুক্তভোগীদের মতামতের ভিত্তিতে তাদের নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।

দশমিনা থানার ওসি আবু সাইয়্যিদ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা চাইলে আইনিব্যবস্থা নিতে পারবেন। পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।