Image description

দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর। ফলে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর জন্য মাঠ ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকরা। এ নিয়ে হতাশা ভর করেছে তাদের মনে।

তবে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলছেন, তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। কিন্তু বড়দিন ও খ্রিষ্টীয় নববর্ষের ছুটির কারণে অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস বন্ধ থাকায় সময়মতো একনলেজমেন্ট স্লিপ (প্রাপ্তি স্বীকারপত্র) হাতে পাননি। শিগগিরই পেয়ে তা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়ে প্রার্থিতা ফেরত পাবেন। তিনি বলেন, কাগজ দু-চার দিনের মধ্যেই চলে আসবে। সুতরাং কোনোভাবেই মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না।

মনোনয়নপত্র বাছাই কমিটির সভাপতি ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ায় ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়নি। তবে তিনি আপিল করতে পারবেন। 

এ আসনে বিএনপির ৫ নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন পান ফাহিম চৌধুরী। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনজন সরে দাঁড়ান। তবে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ইলিয়াস খান বিএনপির প্রার্থী দাবি করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু দলের চিঠি না থাকায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। 

এ রকম পরিস্থিতিতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন, আসনটি দলের প্রার্থীশূন্য হয়ে গেছে। এতে তাদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। 

নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. খোরশেদুর রহমান বলেন, সোমবার ফাহিম চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আল্লাহ ভরসা, দ্রুতই কাগজ হাত পেয়ে যাবেন। খোরশেদুর রহমান হতাশার সুরে বলেন, আমি বলেছিলাম ফাহিমের মা অর্থ্যাৎ আমাদের চাচির নামে একটি মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রাখতে। কিন্তু উনি বলেছেন সমস্যা হবে না। এখন দেখা যাক কী হয়। 

জেলা বিএনপি নেতা ভিপি আনোয়ার হোসেন বলেন, দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর গত ২৪ ডিসেম্বর ফাহিম চৌধুরী ফরম পূরণ করে ডলার জমা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেন। তিনি আরও বলেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা বিষয়টি বুঝে উঠতে পারছেন না, তারা একটু হতাশ। তা ছাড়া প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য অনেকের মন খারাপ। স্থানীয় শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, যদি বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ না হয়, তবে জামায়াতের প্রার্থী এ আসনে সম্ভবত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হবেন। 

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ইলিয়াস খানের স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে পরিচিত নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য নূরুল আমিন বলেন, দুজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। ফাহিম চৌধুরীরটা বাতিল হয়ে গেছে। আসন ফাঁকা থাকতে পারে না। তাই মনোনয়ন পেতে ইলিয়াস খান আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। 

নকলা-নালিতাবাড়ী আসনের জামায়াতের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া বলেন, আইনের ছাত্র হিসেবে আমি এ বিষয়ে পড়ালেখা করে দেখেছি, ফাহিম ভাই যে সময়ে আবেদন করেছেন, তাতে তাঁর ফিরে আসা খুব কঠিন। তিনি আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমরা তাঁকে মাঠে চাই। তবে তাঁর জন্য ফিরে আসা খুব কঠিন।