জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বছরে আমার সাড়ে ১২ লাখ টাকা ইনকাম। প্রতি মাসে ১ লাখের চেয়ে একটু বেশি। জুলাই বিপ্লবের পর কমেছে, বিপ্লবের আগে অনেক বেশি ছিল। অন্যদের ইনকাম বাড়ে কিন্তু আমার ইনকাম কমেছে। সব মিলিয়ে আমার সম্পদ আছে ৫০ লাখ টাকার।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে দেবিদ্বার পৌর মিলনায়তনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত বলেন, আমার আয় দিনের মতো স্পষ্ট। আমার বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ২২ বছর প্রবাসী ছিলেন। কোনো রকমে আমাদের সংসার চলত। আপনারা চাইলেই মোবাইলে আমি কত টাকা ইনকাম করি সব জানতে পারবেন।
তিনি বলেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী। তিনি স্বৈরাচারের কাছে কখনো আপস করেননি। স্বৈরাচারের অত্যাচার-নির্যাতনেও নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। দীর্ঘদিন কারা ভোগ করেছেন। ওনার জন্য পুরো বাংলাদেশের মানুষ কেঁদেছে। আমাদেরকে এমন জীবন গঠন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা কি চান একজন প্রধানমন্ত্রী আমৃত্যু প্রধানমন্ত্রী হয়েই থাকুক? আপনারা পরিবর্তন চান কি না? আপনারা পরিবর্তনের পক্ষে কি না? আপনারা ইতিবাচকের পক্ষে কি না? নতুন নেতৃত্বের পক্ষে কি না? যদি পরিবর্তনের পক্ষে হন, সংস্কারের পক্ষে হন- অবশ্যই আমাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় থাকতে হবে।
হাসনাত বলেন, হাসিনার আমলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল কিন্তু তার আমলে দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। হাসিনার চাটুকারগুলো সারাদিন ফেসবুকে লেখালেখি করত। পত্রিকায় তার পক্ষে লম্বা লম্বা কলাম ছাপা হতো। আমি হাসনাত আব্দুল্লাহ আপনাদের দ্বিমত প্রকাশের জন্য লড়াই করব।
মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, আমাদের অনেক নেতা আছে যারা ট্যাবলেট ব্যবসা করেন। আবার তারাই ইয়াবা ট্যাবলেট বন্ধের ঘোষণা দেন। দেবিদ্বারে অনেক নেতা আছেন, যারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারাই এই ব্যবসা বন্ধের ঘোষণা দেন, তখন আমাদের সন্দেহ জাগে।
প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্স ভাইদের উদ্দেশে বলতে চাই- ভোট যাকে ইচ্ছা তাকেই দেন। তবে আপনি আপনার ভোটটা অবশ্যই দেবেন। রেমিট্যান্স আগামী দিনে নির্বাচনের জন্য ফ্যাক্টর- এটা বুঝতে পারলেই সরকার রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুবিধা দেবে।
দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এবং জোটের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শহীদ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক লোকমান হোসাইন ভূঁইয়া ও দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম।