Image description
 

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নেতৃত্বের মধ্যে একাধিক ধারা থাকলেও দীর্ঘ ৪৫ বছর পর জয় লাভ করতে চায় স্থানীয় বিএনপির নেতারা। এজন্য তারা মাঠ পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয়তা রয়েছে এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ ও ৯৬ সালে পর পর দু’বার প্রয়াত ফজলুর রহমান সুলতান মনোনয়ন পান। কিন্তু প্রতিবারই তিনি পরাজিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তারই সহোদর গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এবি সিদ্দিকুর রহমান মনোনয়ন পান। সেই নির্বাচনে সারাদেশে চারদলীয় জোটের জয়জয়কার থাকলেও গফরগাঁও বিএনপির প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান প্রয়াত আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের সাথে ভোটযুদ্ধে পরাজিত হন।

 

সেই নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার কারণ হিসেবে বিএনপি সাংগঠনিক দুর্বলতাকে দায়ী করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে এবি সিদ্দিকুর রহমানের পরিবর্তে ফের তারই বড় ভাই প্রয়াত ফজলুর রহমান সুলতানকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। সেই নির্বাচনেও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি গিয়াস উদ্দিন আহমেদের কাছে পরাজিত হন ফজলুর রহমান সুলতান।

 

এরপর ২০১৪, ১৮ ও ২৪ সালে অনুষ্ঠিত বিনাভোট, রাতের ভোট ও আমি ডামি নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন আলতাফ গোলন্দাজের ছেলে ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল।

 

আর এখন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন যাবত হাতছাড়া হয়ে যাওয়া আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আসনটি ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

 

গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইসহাক বলেন, বর্তমানে গফরগাঁও উপজেলা ও পাগলা থানা বিএনপির কমিটি নেই। তবে দলে মনোনয়ন প্রশ্নে সামান্য কোন্দল রয়েছে তা অচিরেই মিটে যাবে। কেননা বিএনপির সকল নেতাকর্মী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ।

 

এছাড়াও তিনি জানান, গফরগাঁও এবং পাগলা থানা বিএনপিসহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ছাড়াও বিএনপির অন্যান্য সহযোগী সংগঠন ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও পাগলা থানা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে।

 

তবে ডা. রানা মনোনয়ন পেলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি দীর্ঘদিন যাবত হাতছাড়া হয়ে যাওয়া আসনটি পুনরায় ফিরে পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

 

মনোনয়ন ও সমর্থন প্রশ্নে পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আ. হামিদ শেখ বলেন, এ আসনে তৃণমূলের চাহিদার ভিত্তিতে ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার বিকল্প আছে বলে আমরা মনে করি না। ডা. রানা একজন মানবতাবাদী চিকিৎসক। জুলাই আন্দোলনে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন বহু আহত ছাত্র-জনতাকে। এছাড়াও বিগত ১৬ বছর রাজপথে থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আ.লীগ নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার বিএনপির এমন অনেক নেতাকর্মীর সুচিকিৎসার পাশাপাশি দুঃসময়ে আর্থিক সহযোগিতা করায় তৃনমূল নেতা-কর্মীদের ভরসায় পরিনত হয়েছেন ডা. রানা।

 

জেলা যুবদলের যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল আজিজ সাদেক বলেন, এ আসনে নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভের জন্য প্রার্থী নির্ধারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে মনোনয়ন প্রশ্নে দুই থানায় টানাপড়েন থাকলেও ৮০ ভাগ বিএনপির নেতাকর্মী ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার পক্ষেই কাজ করছেন বলে দাবি এ যুব নেতার। এছাড়াও তিনি বলেন শুধু আমরাই নই সাধারণ ভোটারদেরও ধারণা, এবারের নির্বাচনে জয়লাভ করতে চাইলে এখানে ডা. রানার কোন বিকল্প নেই।

 

এ ব্যাপারে ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানা বলেন, এ আসনে চূড়ান্তভাবে একজনকে মনোনয়ন দেয়া হবে। দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। আমাকে বা অন্য যাকেই চূড়ান্ত করা হোক, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ব ।