Image description

৬৩ আসন জোট শরিকদের জন্য ফাঁকা

যেসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিএনপির ভেতরে আলোচনা আছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগের প্রায় ২০টি আসনে মনোনয়ন নিয়ে ঝামেলায় পড়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ঢাকা-০৫ ও ১২, নারায়ণগঞ্জ-০১ ও ০২ এবং ০৫, নরসিংদী- ০৪, ০৫, মানিকগঞ্জ-০১, মাদারীপুর-০১ ও ০২, মুন্সিগঞ্জ-০১, গাজীপুর-০৬ এবং গোপালগঞ্জ-০২,টাঙ্গাইল-০১,০৩,০৪,০৭, কিশোরগঞ্জ-৫ এবং রাজবাড়ী–০১, ০২, আসনের মনোনয়ন নিয়ে চরম অসন্তোষ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসব এলাকায় বিক্ষোভ, দলীয় কার্যালয় ঘেরাও এবং মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া চলছে নিয়মিত।

অতিদ্রুত এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেক বিচক্ষণ। দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় তিনি নিজে কথা বলছেন—ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সদস্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটি।

চট্টগ্রাম বিভাগের কমপক্ষে ২০ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা আন্দোলনে করে আসছেন। এরমধ্যে চট্টগ্রাম-০২, ০৪, ০৫,  ১২, ১৩ এবং ১৬, কুমিল্লা-০৫, ০৬, ০৯ ও ১০, ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ০১, ০২, ০৪, ০৫, নোয়াখালী-০২ ও ০৫ এবং ০৬, ফেনী-০২ এবং চাঁদপুর-০২ ও ০৪ আসনে মনোনয়নবঞ্চিতদের কর্মসূচি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও বিক্ষোভ মিছিল, কিছু এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও হয়।

সিলেট বিভাগের কমপক্ষে ৮ আসনে মনোনয়ন নিয়ে বিক্ষোভ চলছে। এরমধ্যে সিলেট ০১, ০২, ০৩, ০৪, ও ০৬, মৌলভীবাজার ০২, সুনামগঞ্জ ০১, ০২ এবং ০৩ আসনে বিক্ষোভ করছেন মনোনয়ন বঞ্চিতরা।

ময়মনসিংহ বিভাগের ৯ আসনে বঞ্চিতরা আন্দোলন করছেন। এরমধ্যে ময়মনসিংহ ০৩, ০৬, ০৯ এবং ১১ ও শেরপুর-০১ ও ০২ এবং নেত্রকোনা- ০৩, ০৫, জামালপুর-২ আসনে বঞ্চিত নেতাদের সমর্থকেরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।

খুলনা বিভাগের কমপক্ষে ১১আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা আন্দোলন করে আসছেন। এরমধ্যে কুষ্টিয়া-০১, ০২, ০৩ ও ০৪, সাতক্ষীরা-০২, ০৩, ঝিনাইদহ-০৩,মেহেরপুর-০১ ও ০২ এবং মাগুরা-০২, ঝিনাইদহ-০৩ আসনে দলীয় নেতাকর্মীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। জেলা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও মিছিলসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

বরিশাল বিভাগের ৫ আসনে বঞ্চিতরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ করে আসছেন। এরমধ্যে বরিশাল-০১, ০৪,  ঝালকাঠি-০২, পিরোজপুর ০২ এবং ভোলা-০৪।

রাজশাহী বিভাগের কমপক্ষে ১৪ আসনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে রাজশাহী-০১,০৩ ও ০৫, নওগাঁ-০১,০৩ ও ০৪, জয়পুরহাট-০১ ও ০২, নাটোর-০১, পাবনা-০৪ ও ০৫, সিরাজগঞ্জ-৩ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০১ ও ০২ আসনেও একইভাবে দলীয় অসন্তোষ দেখা গেছে। নেতাকর্মীরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা -ভাঙ্গা
ঢাকা ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

 

আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন চলছে দেশের বিভিন্ন বিভাগের জেলাগুলোতে। এর মধ্যে —


ঢাকা বিভাগ

রংপুর বিভাগের ৮ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছেন নেতাকর্মীরা। এরমধ্যে দিনাজপুর-১, ২ ও ৪, কুড়িগ্রাম-০১, ০৩, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) এবং নীলফামারী-৪। ঢাকা-৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবীকে। তাকে নিয়ে একদিকে যেমন বিতর্ক আছে, তেমনি তার বয়স ভাবাচ্ছে দলকে। এই আসনেও প্রার্থী বদল চায় দলের এক অংশ।

নরসিংদী-৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। সাবেক এই এমপি ওয়ান-ইলেভেনে সংস্কারপন্থি ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রয়াত শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের আত্মীয় তিনি। ফলে বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা-হামলা হয়নি বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ বিস্তর।

নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে মোটরসাইকেল শোডাউনের মধ্যদিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করেছে উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু মনোনয়ন পেলেও তার পক্ষে এখনো মাঠে দেখা যায়নি একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান মনিরকে। এ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন চান মনির। ফলে, তার কর্মী-সমর্থকেরও দেখা যায়নি মনোনীত প্রার্থীর কোনো কর্মসূচিতে। কাজী মনিরের অনুসারী ছাড়াও আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে উপশহরের ৩০০ ফিটে মশাল মিছিল করেন আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ দুলাল হোসেনের অনুসারী নেতাকর্মীরা। এ সময় “অবৈধ নমিনেশন মানি না, মানবো না” বলে স্লোগান দিতে দেখা যায় মিছিলকারীদের।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন মনোনয়ন-বঞ্চিত নেতারা। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, কেন্দ্রীয় সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার একজোট হয়েছেন। 

আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির কার্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে বিভেদ ভুলে এক মঞ্চে উঠেন মনোনয়ন বঞ্চিত তিন নেতা। এ সময় তাদের হাজারো কর্মী সমর্থক মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানান। পরে মঙ্গলবার রাতে আজাদের বিরুদ্ধে মশাল মিছিলও করে বিএনপির একাংশ। নেতাকর্মীদের দাবি, আজাদের মনোনয়ন অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা হোক।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিরুদ্ধে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত নালিশ দিয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিত সাত নেতা। তারা হলেন-সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু জাফর, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক।

তাদের অভিযোগ, মনোনীত প্রার্থী মান্নানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাদের পুনর্বাসন এবং দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মান্নানের মনোনয়ন বদলের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচিও পালন করেছে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা। কাচপুরে একইস্থানে একইসময়ে মনোনীত প্রার্থী ও মনোনয়ন বঞ্চিতরা কর্মসূচি দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় পরে সংঘাত এড়াতে আজহারুল ইসলাম মান্নানের সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করে পিরোজপুরে ইউনিয়নে নেয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে আলোচিত আসন হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। এখানে দলের মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন মহানগর বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতারা। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনয়ন বঞ্চিতদের দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানালেও তারা সংবাদ সম্মেলন করে অনাস্থা প্রকাশ করেন।

রাজবাড়ীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে ওবায়দুল হক নাসিরকে। নাসিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেকমন্ত্রী লুৎফর রহমান আজাদ এবং দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মাইনুল ইসলাম। তারা দীর্ঘদিন যাবত নির্বাচনী কাজ করে আসছেন। তারা ও তাদের অনুসারীরা অভিযোগ করছেন, নাসির এই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা না হওয়া এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ এলাকায় স্থানীয়দের মতে এলাকায় মাইনুল ইসলামের ক্লিন ইমেজ রয়েছে। মনোনয়ন পরিবর্তন করা না হলে সাবেক এমপি ও মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ স্বতন্ত্র নির্বাচনের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন বলে তার ঘনিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। টাঙ্গাইল-৪ (কালীহাতি) আসনেও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

এ আসনে প্রায় অর্ধযুগ আগে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া সাবেক এমপি লুৎফর রহমান মতিনকে ধানের শীষ দিয়েছে বিএনপি। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক ছাত্রদল নেতা বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটোসহ আরও কয়েক নেতা। কিন্তু তাদের কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে একজন নিষ্ক্রিয় সাবেক এমপিকে মনোনয়ন দেয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ধারাবাহিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। অপরদিকে, মনোনয়ন পরিবর্তনের আশায় বঞ্চিত নেতারাও নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল-৭(মির্জাপুর) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিশুবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি অব্যাহত রয়েছে। মনোনয়নবঞ্চিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাবের অনুসারীরা এ দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন।

টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। কিন্তু পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে গালাগালি, হুমকির পর নিজেকে হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধা দাবি করাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে ইতিমধ্যে সখীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন ইউনিটের পদধারী প্রায় দুই শতাধিক নেতা বিএনপি থেকে পদত্যাগও করেছেন।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম হলেন-শিল্পগ্রুপ লাবিব গ্রুপের মালিক সালাউদ্দিন আলমগীর। তিনি গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এফবিসিসিআইয়ের একজন সাবেক সহ-সভাপতি। এ আসনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী।

রাজবাড়ী
সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ বিএনপি নেতাকর্মীদের

রাজবাড়ী-১ (সদর ও গোয়ালন্দ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ঢাকা–খুলনা মহাসড়ক ও রাজবাড়ী–কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আসলাম মিয়ার সমর্থকরা। তারা খৈয়মের মনোনয়ন বাতিল করে আসলাম মিয়াকে প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানান।

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে মনোনয়ন ঘোষণা করেনি বিএনপি। আসনটিতে যুগপৎ আন্দোলন সঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা অথবা রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুমকে দিতে পারে বিএনপি। অপর দিকে, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে শো-ডাউন করছেন তার সমর্থকরা। গেল কয়েকদিন আগে ইকবালের অনুসারীরা এহসানুল হুদার জনসংযোগে গুলি ও হামলা করে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ করেছে ১২ দলীয় জোট। 

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক ধানের শীষ পেয়েছেন। এ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি প্রয়াত শামছ উদ্দিন আহমদের ছেলে তানভির আহমেদ রানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আখতারুল আলম ফারুক ও তানভির আহমেদ সম্পর্কে চাচাত ভাই।
 
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে। এ আসনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বকশীগঞ্জ বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি বলেন, জনগণ আমাকে চারবার ভোট দিয়ে উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ও এলাকার উন্নয়নকে লক্ষ্য করেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দলীয় প্রতীকের বাইরে থেকেও মানুষ আমাকে ভালোবাসে। এটাই আমার শক্তি। 

এদিকে, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বিএনপির প্রয়াত সাবেকমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে এডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুলকে। তবে, পুতুলের মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করে এরই মধ্যে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। তিনি বলেন, যদি পুতুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়, তবে আমরা আর অপেক্ষা করব না। স্বতন্ত্র হিসেবেই নির্বাচনে লড়ব। জনগণের ভালোবাসা আর নেতাকর্মীর শক্তি নিয়েই মাঠে নামব।

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম কয়ছর আহমদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাকে চ্যালেঞ্জ করে এরই মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন। 

তিনি বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেব। এলাকার মানুষের চাপে আমি জেনে-বুঝেই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে সালাউদ্দিনকে প্রার্থী করার পর থেকে বিক্ষোভ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, এ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীর বিকল্প কেউ হতে পারেন না। এ আসনের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা না করলে শেষ পর্যন্ত আসলাম চৌধুরী স্বতন্ত্র নির্বাচনে যাবেন বলে তার নেতাকর্মীরা জানান। 

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতা জহুরুল আলম জহুর বলেন, আসলাম চৌধুরী দলের জন্য দীর্ঘ ৯ বছর কারাগারে থাকার কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা আসলাম চৌধুরীর পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য পুরো পরিবারের ওপর নির্যাতন করে।

কক্সবাজারে কাফন কাপড় পড়ে মশাল মিছিল

পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে। এ আসনে সাবেক এমপি ও চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ছাড়াও তার ভাতিজা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরার মধ্যে যে কোনো একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। 

সুনামগঞ্জ-৫ (দোয়ারাবাজার-ছাতক) আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে। তবে ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিতর্কিত ভূমিকার কারণে নেতাকর্মীর একটি বড় অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ আসনে প্রার্থী বদলের দাবিতে আন্দোলন চলছে। যদি প্রার্থীর পরিবর্তন না হয় তাহলে ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে নেতাকর্মীরা জানান। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম এ হান্নানকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ নেতাকর্মীদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি কামরুজ্জামান মামুনকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়ে আসছে তার সমর্থকরা। কামরুজ্জামান উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন তার কর্মীসমর্থকরা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) আসনে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। এতে হতাশ এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী রুমিন ফারহানার অনুসারী নেতাকর্মীরা। এখানে জোটের শরিক কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আলোচিত সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক িএমপি রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। 

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনটি সমমনা দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এবারও জোটের কাউকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হলে এ আসনের বিএনপি নেতা হাসান মামুনের আরেকবার ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে। শেষ পর্যন্ত এ আসনে নুরকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নেতাকর্মীর চাপে হাসান মামুন স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন গলাচিপা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন লায়ন হারুনুর রশিদ। তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ হান্নানের কর্মীসমর্থকরা। এমএ হান্নান স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। এই দুই নেতার কোন্দলে মনোনয়নের দৌড়ে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা , জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মোতাহার হোসেন পাটোয়ারী। 

এসব আসন ছাড়াও প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন চলছে দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে। এর মধ্যে-মাদারীপুর-১ আসনে কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লার নাম ঘোষণা করা হয়। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু বাদ পড়েন। এরই প্রতিবাদে লাভলুর কর্মী-সমর্থকরা ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চরে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী ও চালকরা।

825x465
নোয়াখালীতে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে দশটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে মনোনয়ন পাওয়া এই দশ আসনের ছয়টিতেই বঞ্চিতদের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বঞ্চিতরা প্রতিদিনই এলাকায় ও মহাসড়কে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন থেকে শুরু করে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে মিছিল সহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ বঞ্চিত প্রার্থী স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে প্রার্থী বদলের চিঠিও জমা দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১২ আসনে বিতর্কিত নেতা এনামুল হককে মনোনয়ন দিয়েছে দল। নেতাকর্মীরা জানান, ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট রাতে নগরীর কালুরঘাট শিল্প এলাকার (বিসিক) মীর গ্রুপের ওয়্যারহাউস থেকে ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়। গাড়িগুলো ছিল দেশের ব্যাংক লুটেরা হিসেবে চিহ্নিত এস আলম গ্রুপের। এ ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এনামুল হককে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে স্থগিত করা হয়। ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা অভিযোগ করেন, এনামুল আওয়ামী লীগ আমলে চাল ব্যবসায়ী হিসেবে আঁতাত করে ব্যবসা ও রাজনীতি করেছেন। এনামকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারণা চলছে। তাদের অভিযোগ, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাধারণ কর্মীরা যখন নির্যাতিত হয়েছেন, তখন এনাম ছিলেন সুবিধাভোগী। এনামের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন চার মনোনয়নপ্রত্যাশী। 

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন। ৮০ বছরেরও বেশি বয়স্ক এই নেতার অতীত কর্মকাণ্ডসহ নানা বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে লিখিত জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির শীর্ষ তিন নেতা স্বাক্ষরিত এক আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় এই নেতার মনোনয়নে অনেকেই হতবাক ও ব্যথিত। মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে আন্দোলন করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। 

এছাড়াও সড়কে কলাগাছ রোপন ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদের পর শরীরে কাপনের কাপড় জড়িয়ে উখিয়া-টেকনাফ আসনের (কক্সবাজার-৪) মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক ও বিএনপির  মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. আব্দুল্লাহর সমর্থকরা। 

এদিকে, কুমিল্লা-৬ আসনের মনোনয়ন চেয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন। তাকে মনোনয়ন না দেয়ায় রাতেই কুমিল্লায় মহাসড়ক অবরোধ করেন তার অনুসারীরা। কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল এম আনোয়ারুল আজীমের কন্যা দোলা আজীমের উঠান বৈঠকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দোলা আজীমসহ প্রায় ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় দোলা আজীমের ব্যবহৃত গাড়িসহ বিপুলসংখ্যক যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল কালামের অনুসারীদের বিরুদ্ধে এ হামলার অভিযোগ করা হয়।

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করা হয়। সেনবাগ উপজেলা সদরে এ কর্মসূচি পালন করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমানের অনুসারীরা।

জানা গেছে, সেনবাগ বিএনপির রাজনীতিতে কাজী মফিজুর রহমান ও জয়নুল আবদিন ফারুকের দ্বন্দ্ব দুই দশকের বেশি সময় ধরে। কাজী মফিজ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি। নোয়াখালী-২ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। ফারুক এর আগে পাঁচবার নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদরের আংশিক) এ আসনটিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলসহ কাফনের কাপড় পরে প্রতিক্রিয়া জানান সেখানকার নেতাকর্মীরা।

নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী ফখরুল ইসলামকে পরিবর্তনের দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের সমর্থকেরা উপজেলার কবিরহাট বাজারে এ কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া ফখরুলের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতা ড. মো. জালালউদ্দিন এবং চাঁদপুর-৪ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদকে।

একই দাবিতে চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত এমএ হান্নানের সমর্থিত নেতাকর্মী এবং কয়েক হাজার অনুসারী ফরিদগঞ্জে বিশাল গণমিছিলে অংশ নেন। তাদের মধ্যে অনেকেই কাফনের কাপড় পরে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা কারানির্যাতিত নেতা উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক এমএ হান্নানকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান।

কুমিল্লা

হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাবেক এমপি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাউদ্দীন ফরহাদ। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ফরহাদ বিএনপির দুর্দিনের কাণ্ডারি। ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথমবার মনোনয়ন পেয়ে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ২৯টি আসনে জয়ী হয়েছিল। এর মধ্যে বরিশালের ২১ আসনের মধ্যে দুটিতে জিতেছিল বিএনপি। এর একটি বরিশাল-৪। সবার ধারণা ছিল তিনি যেহেতু ভরাডুবির সময় জয়ী হয়েছেন; সেক্ষেত্রে এবার সবার আগে অগ্রাধিকার পাবেন তিনি। দলীয় টিকিট না পাওয়ায় মেজবাউদ্দিন ফরহাদের পাশাপাশি তার সমর্থকরাও হতাশ।

গৌরনদী-আগৈলঝাড়া নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনেও বিভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি জহিরউদ্দীন স্বপন। কিন্তু তাকে মানেন না অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান।

আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, তারেক রহমান যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই নির্দেশনা আমার কাছে মুখ্য বিষয়। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে, যা যা করা দরকার সবই আমি করব। এদিকে আগৈলঝাড়ায় সংবাদ সম্মেলন করে জহিরউদ্দীন স্বপনকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার সোবাহানপন্থি নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা স্বপনকে সংস্কারপন্থি আখ্যা দিয়ে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান।

সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। কিন্তু তাকে মানেন না অপর তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী। তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মাহবুবুল হক নান্নু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী এবং জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেন। মনোনয়ন প্রশ্নে বঞ্চিত তিন প্রার্থী একাট্টা হয়েছেন। তারা নিজেদের মতো করে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন সংসদীয় এলাকায়। তাদের দাবি, যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি ২০০৮ সালের পর এলাকায় ভেড়েননি। খোঁজ নেননি নেতাকর্মীদের।

মাহবুবুল হক নান্নু বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ইলেন ভুট্টোকে মানতে পারছেন না। কারণ তিনি দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়নে তিনি এমপি হয়েছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থিদের কাতারে যাওয়ার পরও ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। গত ১৭ বছরে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ ছিল না। এ জন্য তার প্রতি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ।

চরফ্যাশন-মনপুরা নিয়ে গঠিত ভোলা-৪ আসনেও প্রার্থী নিয়ে দুই ধারায় বিভক্ত স্থানীয় বিএনপি। এ আসনে সাবেক তিনবারের এমপি নাজিমউদ্দীন আলমকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নকে। মনোনয়ন পাওয়ার পর আলমের বাসায় গেলেও দেখা পাননি নয়ন।

মনোনয়নবঞ্চিত নাজিম উদ্দীন আলম বলেন, চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামবেন। একই অবস্থা বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ আসনে। এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা এবং মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই পূর্বক পুনঃমনোনয়ন চূড়ান্তের দাবি জানিয়েছেন তৃনমূলের নেতাকর্মীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

সিলেট বিভাগের ১৪টি আসনে বেশ কিছু জাতীয় পর্যায়ে নেতা মনোনয়ন পেয়েছেন, আবার বঞ্চিত হয়েছেন অনেকেই। ১৪টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তিনজন প্রবাসী রাজনীতিবিদও পেয়েছেন মনোনয়ন। এ আসন গুলোর মনোনয়ন বঞ্চিতরা আশা করছেন তারা হয়তো মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে তারা কোন আন্দোলন করেনি। শান্তিপূর্ণভাবে দলের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

সিলেট-১ আসনকে কেন্দ্র করে মাঠে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েও মনোনয়ন পাননি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এই আসনে চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেট-২ আসনে বিএনপির হয়ে লড়বেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদীর লুনা। এ আসনে তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আলোচনায় ছিলেন। সম্প্রতি তাকে দলের যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।

সিলেট-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় রাজনীতিতে ত্যাগী নেতা থাকলেও মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক। এছাড়া, এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশায় ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার এমএ সালাম ও সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ খান জামাল। সিলেট-৪ আসনে দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দীকিসহ বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকার পরেও এ আসনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। সিলেট-৫ আসনেও কাউকে মনোনয়ন দেয়নি দলটি। সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এই আসনে জেলা বিএনপির সদস্য ও শিল্পপতি ফয়সল আহমদ চৌধুরী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন।

সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আনিসুল হক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। তবে বসে নেই মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান কামরুল এবং মাহবুবুর রহমান। তারা বিদ্রোহী না হলেও মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার প্রত্যাশায় রয়েছেন।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়সর এম আহমদ পড়েছেন চ্যালেঞ্জের মুখে। এই আসনে মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতারা একাট্টা রয়েছেন। তারা দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন। মনোনয়নবঞ্চিতদের মধ্য থেকে যে কাউকে দলীয় মনোনয়ন দিলে, তারা তার পক্ষে কাজ করবেন এমনটিও জানান দিচ্ছেন। মনোনয়নবঞ্চিত বেশ কয়েকজন নেতা একসাথে প্রচারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওইসব আসনে বিভেদ রেখা মুছে দিতে না পারলে দলীয় প্রার্থীরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অতিদ্রুত এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেক বিচক্ষণ। দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় তিনি নিজে কথা বলছেন। 

তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এখানে অনেক যোগ্য প্রার্থী আছেন। কিন্তু সবাইকে মনোনয়ন দেওয়ারতো সুযোগ নেই। তবে, যারা মনোনয়ন পাবেন না, তাদেরকেও বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এটি আমাদের কমিট মেন্ট।