Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে এক বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে প্রশ্নকর্তা শিক্ষার্থীকে ‘শিবির ট্যাগ’ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ছাত্রদল মনোনীত এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ। তবে একই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী হাসিবুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় অনুষ্ঠিত যমুনা টেলিভিশনের একটি টকশোর খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।

এ ভিডিওতে দেখা যায়, প্রশ্নোত্তর পর্বে দর্শক সারি থেকে মাসুম নামের এক শিক্ষার্থী মায়েদকে প্রশ্ন করেন— “ডাকসু প্রতিবছর হওয়া আমাদের মৌলিক অধিকার। অথচ আপনারা ৯০-এর ডাকসুকে সুশাসনের ডাকাতের কবলে অভিহিত করতেন। ৯০ পরবর্তী সময়ে আপনারাই দীর্ঘ ২৮ বছর ডাকসু নির্বাচন বন্ধ রেখেছিলেন। এবারও জয়ী হলে কি একই অবস্থা চলবে? এবং গণরুম ও গেস্টরুম প্রথা আবার চালু করবেন কি না?”

এই প্রশ্নের জবাবে মায়েদ বলেন— “আপনি যদি সাধারণ শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে আমি দুঃখিত। তবে আমার ধারণা, আপনি শিবির কর্মী। আর সেই কারণেই শিবিরের ন্যারেটিভ ব্যবহার করেছেন।”

এমন মন্তব্যের পর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়। বিশেষ করে, স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নেতা হাসিবুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে মায়েদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিশিয়ালি ট্যাগিং কালচারের সূচনা করেছে। আপনারা যদি নির্বাচিত হয়ে যান, মতবিরোধ হলেই এভাবে ট্যাগিং করবেন? এ ধরণের ফ্যাসিবাদী চরিত্র আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসতে দেব না।”

হাসিবুল ইসলামের এই সরব অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। অনেক শিক্ষার্থী তার স্পষ্টভাষী এ প্রতিবাদকে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন। যদিও হাসিবের পাশাপাশি টকশোতে উপস্থিত অন্য অতিথিরাও প্রতিবাদ জানান।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজওয়ান ফেসবুকে লিখেছেন, “এই প্রথম কেউ খোলাখুলি মুখ খুললেন। মায়েদের মতো মানুষদের দলীয় রাজনীতির নামে এভাবে অন্যকে হেয় করা বন্ধ হওয়া দরকার। স্যালুট হাসিব ভাইকে।”তার পোস্টে মাহবুবা রহমান মন্তব্য করে লেখেন,“প্রতিবাদ করার সাহস এখন বড় অভাব। হাসিব ভাই দেখালেন আসলেই কে নিরপেক্ষ ও ন্যায়পরায়ণ।”

সাবেক এক ঢাবি শিক্ষার্থী তানভীর আজিজ ফেসবুকে লেখেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি কাউকে প্রশ্ন করলেই শিবির ট্যাগ দেওয়া হয়, তাহলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোথায়? হাসিবের প্রতিবাদ নতুন করে আশার সঞ্চার করল।”

এছাড়া শিক্ষার্থী ফারহান উদ্দিন একজন লেখেন, “মায়েদের আচরণ আওয়ামী লীগের কপি মনে হলো। এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ হাসিব ভাই।”

আরেক শিক্ষার্থী সাকিবুল ফেসবুকে লেখেন, “আমরা যারা সত্যিকারের গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তারা হাসিব ভাইয়ের পাশে আছি। এমন প্রতিবাদই ছাত্রসমাজকে বাঁচাবে।”