Image description

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, সংস্কার, বিচার, নির্বাচন এর কোনোটাকে আমি একটার সঙ্গে আরেকটার সাংঘর্ষিক মনে করি না। এর পুরোটা মিলেই হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার, এর পুরোটা মিলেই আমার ৭১ এর মুক্তির লড়াই, এর পুরোটা মিলেই হচ্ছে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান।

কিন্তু এ প্রত্যেকটা কাজ করতে হবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে। একটা সুপ্ত জিনিস, হক জিনিসও চাপিয়ে দিলে জাতি মেনে নেয় না।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলার মিলনায়তনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরিশাল জেলা ও মহানগরে কর্মরত সব সাংবাদিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে মোটা দাগে বড় দুটি জনগোষ্ঠীর অবদান রয়েছে। ১৬-১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে ভোটের জন্য, নির্বাচনের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য। তাদের লম্বা দীর্ঘমেয়াদী কোরবানি রয়েছে, হাজার হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে, প্রতিবন্ধী হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে এবং তাদের মোটা দাগে বড় একটা অবদানও রয়েছে। দ্বিতীয় যেটা হয়েছে গত জুন-জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের আকাশে নতুন নক্ষত্র এসে হাজির হয়েছে। তারা হচ্ছে আমাদের তরুণরা, যুবকরা, আমাদের শিক্ষার্থীরা। এ দুইটা অংশীজনের ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো গত ১৬-১৭ বছর ধরে বলে আসছে আমি ভোট চাই, নির্বাচন চাই, গণতন্ত্র চাই। আর তরুণদের আকাঙ্ক্ষা যেগুলো দেয়ালে দেয়ালে লেখা হয়েছে সেখানে অবিলম্বে নির্বাচনের কথা বলা নেই। তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ভিন্ন হলেও মর্যাদার জায়গায় দুটিই সমান। রাজনৈতিক দলের আকাঙ্ক্ষা যেমন ন্যায্য, তেমনি তরুণদের সংস্কারের দাবিগুলোও ন্যায্য।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হচ্ছে একটি গণঅভ্যুত্থানের সরকার এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এত জনসমর্থন নিয়ে এর আগে কোনো সরকার আবির্ভূতও হয়নি। আমার দৃষ্টিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের তিন-সাড়ে তিন বছরের সরকার পরিচালনার পরে সবচেয়ে সফল সরকার হবে প্রফেসর ড. ইউনূসের এপিসোড। আর এটা সময়ের ওপর নির্ভর করবে। তিনি যদি সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২-৩-৪ বছর থাকতে পারেন তাহলে গত ৪-৫ বছর ধরে আমাদের মাঝে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা, সে পথে অনেকটা এগিয়ে যাব।

এ সময় সংস্কার , নির্বাচন, বিচারের একটি সম্মিলিত রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানা ফুয়াদ। তিনি মনে করেন, এ রোড ম্যাপ ধরে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনসহ অনান্য টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভার শুরুতে নিজ এলাকার মানুষদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় ফুয়াদ বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ঈদ করেছি নিজ এলাকায়। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানতে চেয়েছি তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা। ঘুরে ঘুরে তাদের সমস্যাগুলো দেখার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের সম্মিলিত ব্যর্থতা ছিলে বরিশাল অঞ্চলে। ৭১ এর চেয়েও জরাজীর্ণ অবস্থায় বাস করছি। ন্যূনতম সামাজিক, মানবমর্যাদা, সাম্য নিশ্চিত করতে পারেনি। মনে রাখতে হবে ৭১ এর ব্যর্থতা ৯০ বা ২৪ জন্ম দিয়েছে।

এ সময় তিনি বাবুগঞ্জ-মুলাদী এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি ওই এলাকায় মাদকের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়াসহ দখলদারিত্বের ভয়ঙ্কর অরাজকতার কথাও উল্লেখ করেন। এছাড়া বাবুগঞ্জে জনগণের সুবিধার কথা চিন্তা না করে কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করারও তীব্র সমালোচনা করেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ।