Image description
 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নতুন সরকারকে স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, "আমরা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে গ্রহণ করেছি এই প্রত্যাশায় যে, তিনি তার প্রধান দায়িত্ব পালনে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করবেন।"
শনিবার (২৯ মার্চ) এক বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির সমস্ত সংগ্রামের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, কারণ তারা জানে যে নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল জনসমর্থন পাবে।


তিনি বলেন, "আমরা ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করছি। আমাদের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমাদের লক্ষ্য একটাই—সুন্দর, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী দেশের মধ্যে বিভাজন ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। আমরা তা হতে দেব না।"
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, "আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। জনগণের পার্লামেন্ট গঠন করে দেশকে সমস্যার সমাধান দেব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করাই আমাদের লক্ষ্য।"


তিস্তা নদীর পানিসম্পদ এবং জাতীয় স্বার্থরক্ষার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমরাই তিস্তা নদীর পানির জন্য আন্দোলন করেছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করেছি। আমরাই ফারাক্কা চুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছি। বিএনপিই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।"তিনি বলেন, বিএনপি চায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ নির্বাচন হোক, যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। "আমরা এখন রাস্তায় নেই, তবে জনগণের পাশে আছি। ঈদ-ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছি। কিন্তু জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে বিএনপি আবার মাঠে নামবে," বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য। আমরা তা হতে দেব না। আমরা কোনো দেশের পক্ষে নই, আমরা শুধুই বাংলাদেশের পক্ষে। আমাদের লক্ষ্য জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা, আর সেই লক্ষ্য অর্জনে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।"