
বরগুনার ইমরান খান নামের এক ছাত্রদল নেতাকে আসামি করে বরগুনা আদালতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছেন ফাতেমা তুজ জোহরা মৈতি নামে সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী। তবে মামলায় উল্লিখিত ঘটনার তারিখ ও সময়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান খান। প্রমাণ হিসেবে একাধিক সিসিটিভি ফুটেজও উপস্থাপন করেন তিনি।
মামলার এজাহারে বাদী ফাতেমা তুজ জোহরা মৈতি উল্লেখ করেন, গত ১৬ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমতলী পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পল্লবী সড়কের এ কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে রিকশায় বাসায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে এসে আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান খান বাদী মৈতির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে এবং অপহরণের চেষ্টা করে। এর আগেও প্রেমের প্রস্তাব ও কুপ্রস্তাব দিতেন ইমরান খান।
এ ঘটনায় শ্লীলতাহানি ও অপহরণের চেষ্টার ঘটনার কথা উল্লেখ করে ১৮ মার্চ বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন ফাতেমা তুজ জোহরা মৈতি।
জানা গেছে, মামলার বাদী ফাতেমা তুজ জোহরা মৈতি আমতলী পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাম মোস্তফার মেয়ে। এর আগেও পৈতৃক জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে জব্দ করতে মেয়ে মৈতিকে ভিকটিম সাজিয়ে আপন ভাইয়ের ছেলে ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেছিলেন গোলাম মোস্তফা। এ ছাড়া গোলাম মোস্তফা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের আমতলী উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন। মেয়ে ফাতিমা তুজ জোহরা মৈতি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের আমতলী উপজেলা শাখার উপ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক। তবে মৈতির দাবি, তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
আমতলী এ কে স্কুলের নৈশপ্রহরী আহসান কালবেলাকে বলেন, গত ১৬ তারিখে এ রকম কোনো ঘটনা আমরা শুনিনি। গত একমাসেও এরকম কোনো ঘটনার কথা আমরা শুনিনি।
আমতলী সরকারি কলেজ ও এ কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ইমরান খানকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতেই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের আমতলী উপজেলা শাখার এক নেত্রী ইমারন খানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। এ সময় ইমরান খানের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানি ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলা মিথ্যা দাবি করে প্রতিবাদ জানান তারা।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ফাতেমা তুজ জোহরা মৈতি কিছুদিন আগে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে ওই ছেলের বাবার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করেছেন। এ ছাড়া মৈতি একাধিক ব্যক্তিকে মামলা দিয়ে জব্দ করে টাকা আদায় করেছেন।
আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান খান কালবেলার কাছে তার রাজধানীর চকবাজার ও আবাসিক হোটেলে অবস্থানের একাধিক ভিডিও ফুটেজ তুলে ধরে বলেন, আমতলী উপজেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া একটি গ্রুপ চক্রান্ত করে ছাত্রলীগ নেত্রী মৈতিকে দিয়ে মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানির চেষ্টা করছে। মামলায় উল্লেখিত ঘটনার তারিখ ও সময়ে আমি রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করেছি।
এ ছাড়া ফেসবুকে ধর্ষণের হুমকির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমার ফেসবুক আইডি ক্লোন করে এমনটি করা হয়েছে। আইডি ক্লোন হওয়ার বিষয়টি আমি থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি করতে চাইলে প্রয়োজন নেই বলে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিতে বলে। আমি তার পরামর্শে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি।
ছাত্রদলের সদস্য সচিব বলেন, গত ৫ আগস্টের পরে আমতলী উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসে বিএনপি ও জামায়েত ইসলামী নিয়ে কটাক্ষ করে কথা বলেন মৈতি। এ সময় আমি আমার দল বিএনপি নিয়ে কটাক্ষের প্রতিবাদ করার কারণে আমাকে জব্দ করতে এ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে। এ ছাড়া গত ৫ আগস্টের পর থেকে ফাতেমা তুজ জোহরা মৈতি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক দাবি করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
মামলার বাদী ফাতেমা তুজ জোহরা মৈতি সংবাদ সম্মেলন করে মামলার অভিযোগের ঘটনা সত্য বলে গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন। এ সময় সাংবাদিকরা ইমরান খানের ঢাকায় অবস্থানের সিসিটিভি ফুটেজের কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, আমার মোবাইল ট্র্যাকিং করতে বলেন।
আমতলী থানার ওসি আরিফ ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়ে ইমরান খান আমার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে তার (ইমরান খান) তার আইডি হ্যাক হয়েছিল কিনা তা আমার জানা নেই। তদন্ত কর্মকর্তা মামলার তদন্ত করছেন।