কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে অন্তত ৩০ নারীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মধুমুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মহিউদ্দিন সরকার ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও মেম্বার প্রার্থী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা।
ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে কয়েকজন জানান, মহিউদ্দিন সরকার ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও জনপ্রতি ৩০০ টাকা নেন। কার্ড পাওয়ার পর আরো ২ হাজার টাকা করে দিতে হবে বলেও তাদের জানানো হয়। এভাবে মধুমুড়া গ্রামের অন্তত ৩০ জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
মধুমুড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক সবুজ মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবি ও ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। কার্ড হওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দিতে হবে বললেও তিনি এখনো কোনো কার্ড পাননি।
প্রায় একই অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম, শফিক মিয়ার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম, গিয়াস মিয়ার স্ত্রী শাহীনা বেগম ও রফিক মিয়ার স্ত্রী সাবিনা আক্তার।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘মহিউদ্দিন সরকারের নাম প্রথমে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও পরে তাকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি নিজেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে গ্রামের অসহায় নারীদের কাছ থেকে টাকা নেন।
রুহুল আমিন বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি কাউকে না বলার জন্যও নারীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সুপারভাইজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। কার্ড পাওয়ার জন্য কারও কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। এই কর্মসূচির নাম করে কেউ টাকা নিলে তা প্রতারণা এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহিউদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।
দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন বলেন, সরকার দরিদ্র পরিবারের জন্য বিনামূল্যে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে। কিন্তু এই সুযোগে কেউ অসৎ উপায়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। মধুমুড়া গ্রামের কয়েকজন নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের ঘটনা জানার পর ওই এলাকা পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং করে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যিনি টাকা নিয়েছেন, তিনি প্রতারণা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।