দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের ফাঁসির হুকুমের প্রতিবাদ করায় যে ৬৭ জন নিরপরাধ বাংলার সাধারণ জনতাকে একদিনে হত্যা করা হয়েছিল তাদের কোথায় কিভাবে কবর হয়েছে? শত্রুর সাথে ইনসাফ করতে হলে আজ ৬৭ টি কবর খোঁড়ার কথা ছিল।
সে জিঘাংসার রাজনীতি হয়নি, সেই খুনের বিচারও হয়নি। সেই ৬৭ জন মানুষের কোন মা, বাবা, সন্তান, প্রিয়তমা ছিল না, তাদের ছিল না টাকায় কেনা বা উপহার পাওয়া ফেইক কোন সার্টিফিকেট, তাদের মা স্ত্রী বোনেরা কবর খোঁড়ার কোন ছবি নেই।
সর্বোপরি তাদের জন্য কাঁদার কোন রাজনৈতিক শক্তি নেই, তাদের জন্য কোন গান নেই, সিনেমা নেই, গল্প উপন্যাস কিংবা ডকুমেন্টরি ফিল্ম নেই। একদল মানুষ নেই যারা বিশাল গনজমায়েত করবে এই ৬৭ জন মানুষের জন্য।
তারা ছিল শুধু সংখ্যা। যারা মরে যায়নি তাদের জন্য উপহার ছিল ২৫৩টি মামলা। গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এক হাজার বাহাত্তর জনকে।
এই এক হাজার বাহাত্তর জনের জীবনে যে নরক নামিয়ে আনা হয়েছিল আজ শত্রুর সাথে ইনসাফ করতে হলে ২৫৩টি মামলা ও এক হাজার বাহাত্তর জনের জীবনের সম পরিমাণ জাহান্নাম শত্রুকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল।
এই জমিনে ইসলামপন্থীদের জীবন শুধু সংখ্যা। আর মিথ্যাবাদীর জীবন ভরপুর কত আবেগ আর ভালবাসার গল্পে। কেন?
কারণ ইসলামপন্থীরা নিজেরা নিজেদের গল্প বলে না। তাদের যে ভালবাসার প্রেমময় স্ত্রী আছে, মায়াময় সন্তান আছে, বৃদ্ধ বাবা মা আছে, আছে দুটো অন্ন সংস্থানের সংগ্রাম, নিজের একটা নাম আছে, এই সব কিছু ছাপিয়ে তার পরিচয় হয়ে ওঠে ১ অথবা ২ অথবা ৬৭। কারণ এখানে ব্যাক্তির কোন মূল্য নেই, মূল্য কেবল আদর্শের।
See less