সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে আসা নেতাকর্মীদের থাকার ও রাতযাপনের জায়গা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের জিমনেসিয়াম ব্যবহারের ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বঘোষিত কোনো নোটিশ না থাকায় জিমনেসিয়াম ও বাস্কেটবল গ্রাউন্ড ব্যবহার করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে জিমনেসিয়ামে অনুশীলন করতে গিয়ে ফিরে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনন্যা কর। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিমনেসিয়ামে অসংখ্য মানুষের অবস্থানের একটি ছবি পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
অনন্যা কর তার পোস্টে লেখেন, ‘সকালে ইনডোর প্র্যাকটিসে গিয়ে মেয়ে স্টুডেন্টরা খেলা বাদ দিয়ে ঘুরে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিলিটিজ কি স্টুডেন্টদের জন্য, নাকি এসব ভাড়া করা পলিটিক্যাল কর্মীদের জন্য?’
তবে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক অদিতি ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা হবে—এমন কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। তিনি বলেন, আমরা এক মাস আগে আবেদন করেছি জিমনেসিয়ামে খেলা এবং প্র্যাকটিসের প্রসঙ্গগুলো জেনে নিয়ে। যাতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা না হয়, সে জন্য আমরা কর্তৃপক্ষকে একটি নোটিশ দেওয়ার জন্যও বলেছিলাম।
জিমনেসিয়ামে বহিরাগতদের অবস্থানের বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের বর্তমান পরিচালক নয়না চৌধুরী বলেন, ‘আমার জয়েনিং ডেটই ছিল ৭ তারিখে। তার মানে এই অ্যাপ্রুভালটা আমার মাধ্যমে হয়নি। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়ান গেমসের কারণে আমি দেশের বাইরে ছিলাম।
নয়না চৌধুরী বলেন, যখন আমি জানতে পেরেছি যে এদের ঢুকতে দেওয়া হয়েছে, তখন আমি সঙ্গে সঙ্গেই গেট বন্ধ করে দিয়েছি এবং তাদের ঢোকা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তার ভাষ্য, প্রতিনিধিদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তারা জিম বা মাঠে ঢুকতে পারবেন না; শুধু গ্যালারিতে বসে খাওয়া-দাওয়া করে চলে যাবেন।
এদিকে জিমনেসিয়াম বরাদ্দ দেওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপপরিচালক সালমা আরজু বলেন, প্রায় দেড় মাস আগেই তৎকালীন পরিচালকের কাছে বরাদ্দের চিঠি এসেছিল। এরপর প্রশাসনিকভাবে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নিজের রুটিন দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সালমা আরজু বলেন, আমি যখন রুটিন দায়িত্বে, তখন শুধু বলেছি যে আমার কথায় লেখা আছে—কোনোভাবেই আমার বাস্কেটবলকে ব্যাঘাত ঘটানো যাবে না এবং জিমনেসিয়াম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাই।