Image description

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষ ৭ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীসহ তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেছে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন- ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সব আসামিই পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়েরকৃত সপ্তম মামলার রায় এটি।

৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে- আসামি ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক (৫০ শতাংশ) বাজেয়াপ্ত করা হলো এবং ওই সম্পত্তি বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে জুলাই বা আগস্ট ২০২৪ সময়কালে নিহত ও আহত সকল ব্যক্তি বা তাদের পরিবারবর্গকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়া হলো। আইনানুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের এই রায় প্রকাশিত হওয়ার পর ৩০ দিন পর্যন্ত আসামিদের আপিল করার সুযোগ থাকে। এই ৩০ দিন পর্যন্ত কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা অন্য কোনো ব্যবস্থায় যাওয়ার হয়তো সুযোগ নাই। কিন্তু ৩০ দিন পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের এই রায় বাস্তবায়ন করতে কোনো বাধা নেই।

রায়ের প্রতিক্রিয়া: রায় প্রদানের পর নিজ দপ্তরে ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিদের নির্মম ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডের কারণে সারা বাংলাদেশে ছাত্র-জনতাসহ প্রায় ১,৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন, প্রায় ২৫,০০০ মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন এবং অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এই রায়ের জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি বলেন, এই মামলায় সর্বমোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। একজন সাক্ষী-যিনি আমাদের মরহুম হাদি-তার বক্তব্যটাকে ১৯-এর ৪ ধারায় আদালতে এভিডেন্স (সাক্ষ্য) হিসেবে নেয়া হয়েছিল। সে হিসেবে আমরা মোট ৩০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য বলতে পারি। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আজকে এ মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো।

আসামিদের বর্তমান অবস্থানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এই মুহূর্তে নেই জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যেহেতু তারা এখন দণ্ডপ্রাপ্ত, তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মোহাম্মদ আলী আরাফাত বিচার প্রক্রিয়ার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। বিচারকার্য চলমান থাকা এবং প্রসিডিংস থাকা সত্ত্বেও তারা আদালতে এসে তা মোকাবিলা করেননি; বরং পলাতক রয়েছেন। পলাতক অবস্থায় এমন মন্তব্য এটাই প্রমাণ করে যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই পালিয়ে আছেন এবং তারা অপরাধ করেছেন বলেই পলাতক। আইনগতভাবে পলাতক থাকা অবস্থায় তাদের এমন কোনো বক্তব্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এই মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীও নিয়োগ দেয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আপিলের সুযোগ থাকলে ভিন্ন ফল আসতো: এদিকে, ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তুষ্ট নন রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের দুই আইনজীবী। রায়কে সম্মান জানালেও তারা মনে করেন, আপিলের সুযোগ থাকলে ভিন্ন ফল আসতে পারতো। রায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রতিক্রিয়া জানান রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান।

আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম বলেন, বিচারপতিদের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই। আদালতের প্রতি আমরা সর্বোচ্চ সম্মান জানাই। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। আপিল করার সুযোগ থাকলে সেটি করা উচিত ছিল। আপিলে হয়তো আমরা আরও ভালো কোনো ফলাফল পেতে পারতাম। রাষ্ট্রনিযুক্ত আরেক আইনজীবী ইসরাত জাহান বলেন, আমরা ট্রাইব্যুনালের রায় মানি ও সম্মান করি। কিন্তু এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই।

নীরব প্রতিবাদ আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের: সাত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে নীরব অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। এদিন দুপুর দেড়টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের এডভোকেট লাউঞ্জের সামনে একদল আওয়ামীপন্থি আইনজীবী জড়ো হয়ে এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় তাদের কোনো স্লোগান দিতে দেখা যায়নি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন আইনজীবীকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে শোনা যায়।
ককটেল বিস্ফোরণ: গতকাল মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে কে বা কারা ককটেল ছুড়ে পালিয়েছে, তৎক্ষণাৎ বলতে পারেননি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। রায়ের পর বেলা ১টা ১৫ থেকে ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে মোটরসাইকেলে করে দু’জন ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে সড়কে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে ককটেলটি ছোড়া হয়। কদম ফোয়ারার দিক থেকে এসে ককটেল ছুড়ে মোটরসাইকেলটি মৎস্য ভবনের দিকে চলে যায়। এদিকে ককটেল ছোড়া দু’জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিস্ফোরণকারী দু’জনকে চিহ্নিত করা গেছে। তারা আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতকারী কেউ হতে পারেন। সরকার এ বিষয়ে তদন্ত করছে।

কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ: রায়ে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ৪টি করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে: ১. ওবায়দুল কাদেরকে ১, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড ও ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযোগ-১: (হামলার নির্দেশ ও উস্কানি): ১ থেকে ১৬ই জুলাই পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলন দমনে নির্দেশ দেন। ১১ই জুলাই ছাত্রলীগ সভাপতিকে ফোনে “মারো না কেন, ওদের প্রোটেকশন দিচ্ছো কেন?” বলে হামলার নির্দেশ, ১৫ই জুলাই “জবাব দেবে ছাত্রলীগ” বলে উস্কানি এবং ইন্টারনেট বন্ধ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ১৬ই জুলাই আবু সাঈদসহ সারা দেশে আন্দোলনকারীদের হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেন।

অভিযোগ-২: (কারফিউ ও ‘দেখামাত্র গুলির নীতি): ১৭ ও ১৮ই জুলাই রাজপথে প্রতিরোধের ডাক দেন। ১৯শে জুলাই কারফিউ জারির পর আন্দোলনকারীদের ওপর ‘দেখামাত্র গুলির নীতি অনুমোদন করেন, যার ফলে মিরপুর-মহাখালীসহ সারা দেশে নির্বিচার গুলিতে প্রাণহানি ঘটে।

অভিযোগ-৩: (ব্যাপক আক্রমণ ও গণহত্যা): ৩রা আগস্ট পাড়া-মহল্লায় বলপ্রয়োগে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেন। এর ফলে ৪ ও ৫ই আগস্ট ঢাকাসহ সারা দেশে নির্বিচার হামলায় ১,৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন।

অভিযোগ-৪: (কমান্ড রেসপনসিবিলিটি): শীর্ষ পদে আসীন থেকে অধীনস্থদের অপরাধ জানা সত্ত্বেও তা প্রতিরোধে বা দোষীদের বিচারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে অপরাধ আড়াল করেন।

২. আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিমকে ২ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস, ১ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযোগ-১: (যৌথ অপরাধমূলক উদ্যোগ): ৯ ও ১৫ই জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আন্দোলন প্রতিহত করার ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা ও উস্কানি সমর্থন করেন, যার ধারাবাহিকতায় ঢাবিসহ দেশব্যাপী রক্তক্ষয়ী হামলা সংঘটিত হয়।

অভিযোগ-২: (কারফিউ বাস্তবায়ন ও নিজ এলাকায় হত্যা): কারফিউ ও বলপ্রয়োগের নীতি বাস্তবায়নে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। নিজের জেলা মাদারীপুরে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেয়ায় দীপ্ত দে ও তৌহিদ স্বর্ণকারসহ সাধারণ মানুষ নিহত হন।

অভিযোগ-৩: (ধারাবাহিকতায় উস্কানি): ৩রা আগস্ট পার্টি অফিসে প্রতিরোধের নির্দেশ এবং ৪ঠা আগস্ট আন্দোলনকারীদের ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ আখ্যা দেন। এর ফলে বাংলামোটর, পল্টন ও চাঁনখারপুলে গুলিতে বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান।

অভিযোগ-৪: (কমান্ড রেসপনসিবিলিটি): যুবলীগের নেতাকর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা রোধে ব্যর্থ হন, যার ফলে দেশ জুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও অঙ্গহানির ঘটনা ঘটে।

৩. মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে ৩ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস, ১ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড ও ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযোগ-১: (নিয়মতান্ত্রিক হামলায় সহায়তা): সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অপরাধমূলক পরিকল্পনার অংশীদার হয়ে গণ-আন্দোলন সহিংসভাবে দমনের জন্য নির্দেশ, উস্কানি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেন।

অভিযোগ-২: (প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়ন ও সেন্সরশিপ): তথ্য মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমকে অপব্যবহার করে সত্য প্রকাশে বাধা দেন, ভুয়া ন্যারেটিভ প্রচার করেন, শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ তকমা দেন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন।

অভিযোগ-৩: (অবধারিত পরিণাম জেনেও ভূমিকা): চরম বলপ্রয়োগের ফলে নির্বিচার গণহত্যা ঘটতে পারে জেনেও সহিংস প্রচার অব্যাহত রেখে অপরাধের পথ সুগম করেন।

অভিযোগ-৪: (কমান্ড রেসপনসিবিলিটি): রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার ও প্রচার মাধ্যমের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক হিসেবে অধস্তনদের মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধ না করে উল্টো মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দেন।

৪. শেখ ফজলে শামস পরশকে ১ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস, ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযোগ-১: (সশস্ত্র ক্যাডার পরিচালনা): যুবলীগের নেতাকর্মীদের আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেন। ১৪ই জুলাই রাতে টিএসসি ও মধুর ক্যান্টিনে সশস্ত্র বহিরাগত জড়ো করেন এবং ১৫ই জুলাই ঢাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর রক্তক্ষয়ী হামলা চালান।

অভিযোগ-২: (চট্টগ্রাম ও ঢাকায় হত্যাযজ্ঞ): তার নির্দেশে ১৮ই জুলাই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে যুবলীগের ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে তানভীর সিদ্দিকীসহ আন্দোলনকারীদের হত্যা করে এবং ১৯শে জুলাই মহাখালীতে নির্বিচার গুলিতে বহু মানুষ শহীদ হন।

অভিযোগ-৩: (দেশব্যাপী সহিংস সংঘাত উস্কে দেয়া): ১লা আগস্ট উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন এবং ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী যুবলীগকে সক্রিয় করেন, যার জেরে ফেনীর মহিপাল, লক্ষ্মীপুর ও রাজশাহীতে প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণ ঘটে।
অভিযোগ-৪: (কমান্ড রেসপনসিবিলিটি): যুবলীগের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্যাডার বাহিনীকে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও হত্যাকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।

৫. মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে ১ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
অভিযোগ-১: (ক্যাম্পাসে অস্ত্র নিয়ে হামলা): আন্দোলনকারীদের উপহাস করে প্রতিরোধের ডাক দেন। ১৪ই জুলাই রাতে টিএসসিতে অবস্থান নেন এবং ১৫ই জুলাই ঢাবিতে পিস্তল হাতে যুবলীগের সশস্ত্র হামলায় নেতৃত্ব দেন।

অভিযোগ-২: (নিজে অস্ত্র হাতে গুলিবর্ষণে নেতৃত্ব): ১৯শে জুলাই মিরপুর এলাকায় নিজে অস্ত্র হাতে নিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে করে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণে সরাসরি নেতৃৃত্ব দেন, যাতে রুস্তম ও আসিফ ইকবালসহ ২৬ জন নিহত হন।

অভিযোগ-৩: (মিরপুরে গণহত্যা সংঘটন): ১লা আগস্ট আন্দোলন নির্মূলের নির্দেশ দেন এবং ৪ ও ৫ আগস্ট মিরপুরে তার উপস্থিতিতে ক্যাডারদের তাণ্ডবে আলভী ও মিরাজসহ বহু বিক্ষোভকারী নিহত হন (কেবল মিরপুরেই প্রায় ৬৯ জন নিহত)।

অভিযোগ-৪: (কমান্ড রেসপনসিবিলিটি): যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার ক্যাডার বাহিনীর তাণ্ডব ও নারকীয় হত্যাকাণ্ড প্রতিহত করতে কোনো উদ্যোগ নেননি।
৬. মো. সাদ্দাম হোসেনকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে পৃথকভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযোগ-১: (ঢাবিতে বর্বর হামলা ও চিকিৎসা রোধ): ১১ই জুলাই রাজু ভাস্কর্যে হুমকির পর ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে দেশব্যাপী বার্তা পাঠান। ১৫ই জুলাই ঢাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হেলমেটধারী সশস্ত্র ক্যাডার লেলিয়ে দেন এবং ঢাকা মেডিকেল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে আহতদের চিকিৎসায় বাধা দেন।

অভিযোগ-২: (দেশব্যাপী হত্যার পথ তৈরি): “রাজাকারদের শেষ দেখে ছাড়বে ছাত্রলীগ”-এমন উস্কানি দেন। এর ফলে ১৬ই জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিতে ৬ জন এবং ১৮ই জুলাই অন্তত ২৩ জন নিহত হন।

অভিযোগ-৩: (নিয়মতান্ত্রিক আক্রমণ): শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগকে প্রাণঘাতী অস্ত্রসহ নিয়োজিত রেখে ১,৪০০-এর বেশি প্রাণহানি ও ২৫ হাজারের বেশি আহতের ঘটনায় সমন্বিত ভূমিকা পালন করেন।

অভিযোগ-৪: (কমান্ড রেসপনসিবিলিটি): ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা হিসেবে কর্মীদের রক্তক্ষয়ী সহিংসতা থেকে নিবৃত্ত না করে অধস্তনদের নির্দেশদাতা হিসেবে পূর্ণ দায় বহন করেন।

৭. শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে পৃথকভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযোগ-১: (নারী শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলা): ১৩ই জুলাই মধুর ক্যান্টিনে উস্কানি, ১৪ই জুলাই রাতে মহড়া এবং ১৫ই জুলাই ঢাবিতে সাধারণ ও নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্রসহ বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে আহতদের চিকিৎসাবঞ্চিত করার অপরাধে নেতৃত্ব দেন।

অভিযোগ-২: (দেশব্যাপী সমন্বিত সহিংসতা): ১৬ই জুলাই রাজু ভাস্কর্যে উস্কানি প্রদান এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে দেশ জুড়ে অস্ত্রধারী ক্যাডারদের সমন্বয় করেন, যা দেশব্যাপী ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়।

অভিযোগ-৩: (ধারাবাহিক নিয়মতান্ত্রিক আক্রমণ): ১লা জুলাই থেকে ৫ই আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী অস্ত্রধারী ছাত্রলীগকে সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর নিয়মতান্ত্রিক হামলায় পরিচালিত করেন।

অভিযোগ-৪: (কমান্ড রেসপনসিবিলিটি): ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থেকেও নেতাকর্মীদের নৃশংস তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ড রোধে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হন এবং অপরাধে প্রত্যক্ষ মদত জোগান।