ঢাকার কেরানীগঞ্জে দিনে-দুপুরে এক মাছ ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্বজনদের দাবি, ফুটপাতে মাছের ব্যবসা এবং চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কেরানীগঞ্জের আরশীনগর এলাকার ‘রাজ সেলুনে’ এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফরহাদ হোসেন (২৫) ভোলা জেলার দুলারহাট উপজেলার নূরাবাদ গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের আরশীনগরের মেম্বার গলি এলাকায় থাকতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য, দুপুরে বাসার কাছের রাজ সেলুনে চুল কাটাতে যান ফরহাদ। এ সময় ‘অ্যালেক্স গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের ১০ থেকে ১৫ জন সেলুনে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়। সাব্বির ও আরমানের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফরহাদকে এলোপাতাড়ি কোপায়। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বন্ধু আরিফ বলেন, ফরহাদ কেরানীগঞ্জের মোহাম্মদপুর মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ‘অ্যালেক্স গ্রুপ’-এর আরমান, সোহেল, কাল্লু ও সাব্বিরসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। পাশাপাশি প্রতিদিনের জন্য পৃথক চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
নিহতের পরিবারের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি এবং ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ওই গ্যাংয়ের সঙ্গে ফরহাদের বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।