নারীর অধিকার আদায়ের পাশাপাশি নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি। তিনি বলেন, শুধু নারীর অধিকার নিয়ে চিৎকার করলে হবে না; নারীর অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে হবে।
শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে “কর্মজীবী নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নীতিমালা” শীর্ষক সিরাত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নূরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি বলেন, কৃষক মাঠ থেকে কৃষিপণ্য বাড়িতে নিয়ে আসার পর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের নারী কর্মীরাও দায়িত্ব পালন করেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও দেশের উৎপাদন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
মানবসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি শিশু খাবারের জন্য এক মুখ আর উপার্জনের জন্য দুই হাত নিয়ে জন্মায়। সেই দুই হাতকে কর্মক্ষম করে তুলতে মায়েদের সময় দিতে হবে। দেশে সাত শতাংশ প্রতিবন্ধি এবং চব্বিশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আট শতাধিক মানুষ চোখ হারিয়েছেন এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়েছেন। জামায়াত এমপি বলেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার আন্দোলন দমনে যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের ‘শেষ স্বৈরাচারী হাসিনার’ বিচার বাস্তবায়ন করতে হবে।
যুবসমাজকে দক্ষ করে বিদেশে পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ যুবক-যুবতীরা বিদেশে গেলে দেশের আয় ও রেমিট্যান্স বাড়বে। সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত আইন নিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে কোরআনবিরোধী আইন পাস হয়েছে। তার দাবি, আল্লাহর বিধানকে পাশ কাটিয়ে মনগড়া আইন করা কোরআনের আইনের পরিপন্থী। এ আইনের ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি তৈরি হবে।
তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সীরাত অনুসরণ করে সমাজ পরিচালনার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক রোজিনা আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন মারদিয়া মমতাজ এমপি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট লেখিকা ও নারী সংগঠক কামরুন্নেসা মাকসুদা।
সেমিনারে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ২০ দফা দাবি পেশ করে সবার সম্মতিতে তা অনুমোদন করে শ্রমিক সংগঠনটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবছর মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং বন্ধ কারখানা চালু করা।
এ ছাড়া অন্যায় ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ, শ্রম আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, শ্রম আইন বাস্তবায়ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত, নারী শ্রমিকদের ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আবাসন, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে ট্রেড ইউনিয়ন ও যৌথ দর-কষাকষির অধিকার নিশ্চিত, শিশুশ্রম বন্ধ, আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের কর্মস্থলে পেনশন ব্যবস্থা চালুর করার দাবি জানান।