নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে মোহাম্মদ হোসেন নামের এক যুবদল কর্মীসহ একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোহাম্মদ হোসেনকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল উত্তরপাড়া জামে মসজিদের বর্তমান সভাপতি পদে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হোসেনের শশুর বিএনপি নেতা মো: আমানউল্লাহ মিয়া রয়েছেন। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কমিটির সভাপতি পরিবর্তন করতে চান একই এলাকার জালালউদ্দিনের ছেলে বিএনপি কর্মী মাসুদ মিয়া, তার ভাই রোকন উদ্দিন ও মামুন মিয়া।
এ নিয়ে গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে রোকন উদ্দিনের সাথে দাইয়ানের ছেলে মোহাম্মদ হোসেনের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় মোহাম্মদ হোসেন রোকন উদ্দিনকে থাপ্পড় দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে রোকনউদ্দিনের নেতৃত্বে বস্তল এলাকার মাসুদ মিয়া, মামুন মিয়া, শেখ সাদি, আরিফ হোসেন বহিরাগত সন্ত্রাসী আলী হোসেনের নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড নিয়ে মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে হামলা করে।
এসময় তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে হামলাকারীরা। ঘরে ঢুকে ফ্রিজ, টিভি, আলমারি, আসবাবপত্রসহ তিনটি কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। এসময় মোহাম্মদ হোসেনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে তারা। এছাড়াও স্ত্রী তুলি আক্তার, মা নূর বানু ও বোন ইয়াসমিনকে পিটিয়ে আহত করে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হোসেনের বোন আহত ইয়াসমিন জানান, সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে এসে গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘরে ঢুকে তার ভাই হোসেনকে কুপিয়ে পেটের নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলে। তাদের ওপরও হামলা করে পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর ও বাড়িতে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও আনুমানিক ১০ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।
তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক সেলিম মিয়া জানান, হামলা ও গুলি বর্ষণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। হামলাকারীরা ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করেছেন। এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জসিমউদ্দীন জানান, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার গুলি বর্ষণের কথা বলেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, ‘হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। হামলার সাথে জড়িতদের পুলিশ গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’