Image description

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকেই আত্মগোপনে সিলেটের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম পল্লব। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও দলের উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক। তবে তাকে নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তিতে ছিল সিলেটের পুলিশ। পল্লব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ছিলেন। নিজের অবস্থান জানান দিয়ে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছাড়তেন। এমনকি ধানমণ্ডি ৩২-এ গিয়েও তার উপস্থিতি জানান দিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। আবুল কাশেম পল্লব ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন এমন তথ্য সম্প্রতি পুলিশের কাছে ছিল। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় তার ওপর। শনিবার রাতে তিনি ঢাকার ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিলেটের মোস্ট ওয়ানটেড পল্লব।

তাকে ধরতে সিলেট পুলিশের ঘুম হারাম ছিল। আর এই ঘুম হারামের কারণও ছিল। পল্লব গত দুই বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ছিলেন। দলের হয়ে নানা কর্মকাণ্ড তিনি প্রকাশ করেন। তবে তার অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না। বিয়ানীবাজারের স্থানীয় সূত্র জানায়- আবুল কাশেম পল্লব আওয়ামী লীগ জমানায় বিয়ানীবাজারে ছিলেন বিদ্রোহী। দলের উল্টো স্রোতে তিনি নির্বাচন, রাজনীতি সব করেছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে সবাই যখন অন্তরালে তখন চেহারা পাল্টে ফেলেন পল্লব। নিজের অ্যাক্টিভিটিজ প্রচার করতে একের পর এক কর্মকাণ্ড তিনি ঘটিয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পরদিনই বিয়ানীবাজারে পল্লব তার অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল করেন।

এ কর্মসূচি পালনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তবে এই মিছিলের কয়েকদিন পর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে তার উপস্থিতির সত্যতা মিলে। পল্লব নিজেই কক্সবাজার এলাকার একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রচার করেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় এভাবে তিনি গোটা দেশ চষে বেড়ান। এই চষে বেড়ানোর ভিডিও তিনি জানান দেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির নেতারা জানিয়েছেন- পল্লব যখন যে এলাকায় থাকতেন তখন ওই এলাকার ভিডিও প্রকাশ করতেন না। তিনি যখন অন্যস্থানে চলে যেতেন তখন আগের জায়গার ভিডিও প্রকাশ করতেন। এমনকি ধানমণ্ডি-৩২ ভাঙার সময়ও সেখানে পল্লবের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এমন একটি ভিডিও তিনি প্রকাশ করেন। তখন ওই এলাকায় আওয়ামী লীগ কিংবা অঙ্গসংগঠনের কারও উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষায়- পল্লব বেপরোয়া ছিলেন। তাকে ধরতে বিয়ানীবাজারে একাধিক ফাঁদ পাতা হলেও আটক করা যায়নি। নিজ এলাকায় এসেও তার উপস্থিতি জানান দিতো। এমনকি মাঝে মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর ভিডিও প্রকাশ করতো।

ফলে তাকে নিয়ে অস্থির ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- পল্লব আগস্ট মাসে বিয়ানীবাজারে এসেছিল। সে একটি বাসায় তার অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠান করেছে। গত এক বছরে দু’টি মিছিলও করেছে এলাকায়। মিছিল করেই সে এলাকা ছেড়ে পালায়। চলতি মাসেও পুলিশের দায়ের করা দু’টি মামলায় তার নাম রয়েছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় পলাতক সে।

শনিবার রাতে ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর পল্লবকে নিয়ে জানা গেছে নানা তথ্য। দুই বছর ধরে পল্লব স্থায়ীভাবেই ঢাকায় অবস্থান করছে। ধানমণ্ডি এলাকায় একটি বাসায় আত্মগোপনে ছিল। তবে ঢাকায় চলাচল করতো সে। এমনকি নিজেও প্রায় সময় গাড়ি ড্রাইভ করতো। দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এদিকে পল্লব গ্রেপ্তারের পর বিয়ানীবাজার থানার ওসি আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম জানিয়েছেন- তার বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার ও সিলেটে মামলা রয়েছে।