Image description

ফরিদপুরের সালথায় একসময় আমিন খন্দকার (৪৫) ছিলেন উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে গিয়ে পরে কৃষক লীগের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেন ফুলের তোড়া দিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মামলা থেকে রেহাই পেলেন না তিনি। বিস্ফোরক ও সংঘর্ষের পৃথক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মোন্তারমোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমিন খন্দকার ওই ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের খন্দকার হাচান আলীর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট সালথা থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক মামলার আসামি আমিন খন্দকার। এর পাশাপাশি মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলার বড়বাংরাইল গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিন খন্দকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর চৌধুরী ওরফে লাবু চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি । ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে কৃষক লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

এরপর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগ দেন আমিন খন্দকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সোনাপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলামের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।

তবে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও পুরোনো মামলার পাশাপাশি নতুন সংঘর্ষের মামলায় তার নাম আসায় শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার এড়াতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ২০২৫ সালের বিস্ফোরক মামলা এবং মঙ্গলবারের সংঘর্ষের মামলায় আমিন খন্দকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।