Image description

জুলাই আন্দোলনে সাধারণ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী। তখনই প্রশ্ন ওঠে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নেওয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ অস্ত্র নিয়ে। গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে অনেক বৈধ লাইসেন্সধারী নেতা-কর্মী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ছাত্র-জনতাকে দমনে কর্মীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে ফেরত নেওয়ার আগেই গ্রেপ্তার হন অনেকে। আবার অনেক অস্ত্র বিভিন্নভাবে বেহাতও হয়ে যায়। অনেক অস্ত্রই চলে গেছে আওয়ামী লীগের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীদের হাতে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সব অস্ত্র জমা ও লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যারা জমা দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শুরু হয়।

তবে পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, হাজারো আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর বিপরীতে মাত্র ১১৬টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ সব বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক ও দলীয় বিবেচনায় অনেক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। সেগুলো যাচাইবাছাইয়ের জন্য ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা নেওয়া হয়েছিল। সরকারের নির্দেশনার পরও যেসব লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা পড়েনি, সেগুলো উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব লাইসেন্সধারীর বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত সাড়ে ১৫ বছরে ২০ হাজার ১৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। মেট্রোপলিটনের মধ্যে ডিএমপিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৯৬টি, আরপিএমপিতে ৭৮টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। 

এ ছাড়াও সিএমপিতে ৪৪৩, কেএমপিতে ৩৮৩, আরএমপিতে ১৩৫, বিএমপিতে ২৯১, এসএমপিতে ২৭৩, জিএমপিতে ২৫৩টি লাইসেন্স দেওয়া হয়। রেঞ্জের মধ্যেও ঢাকা রেঞ্জে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৭৫টি লাইসেন্স দেওয়া হয়। এ ছাড়াও ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৭৮৪, রাজশাহী রেঞ্জে ২ হাজার ২৬১, রংপুরে ৭৫৭, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২ হাজার ৪৩টি, খুলনায় ২ হাজার ৪৮১, বরিশালে ৭৫৯ ও সিলেট রেঞ্জে ১ হাজার ৩০৪টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। একই সময়ে ১ হাজার ৩০৬ জন লাইসেন্স নেওয়ার পর অস্ত্র কেনেননি। 

ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নামে ২ হাজার ১৫৩টি, কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের নামে রয়েছে ৯৩৩টি, কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের রয়েছে ৭৭৭টি অস্ত্র। অর্থাৎ বিধি অনুযায়ী এই ৫ হাজার ১৬৯টি লাইসেন্সের অস্ত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে জুলাই আন্দোলনের সময় লাইসেন্সকৃত অনেক অস্ত্র বেহাত হয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫২১টি অস্ত্র জমা পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার করে লাইসেন্সকৃত ৩৩টি অস্ত্র। তবে ব্যক্তি পর্যায়ের ২১৪টি অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে অনেক অস্ত্র জমা পড়েছে। যেগুলো জমা পড়েনি, সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আর জমা না পড়া অস্ত্রগুলো উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।  এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের যে তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে সেটি শতভাগ না-ও মিলতে পারে। কারণ লাইসেন্সের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন দেখে থাকে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত করে প্রাতিষ্ঠানিক অনেক লাইসেন্স বহালই রাখা হয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ের আরও বেশ কিছু লাইসেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।