Image description

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগ নেতা মিনহাজুল আবিরকে পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও ছাত্রদলকে ‘মোকাবেলা’ করতে চেয়েছিলেন। গত ১৩ আগস্ট গঠিত ৫ সদস্যের ঢামেক ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পেয়েছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিনহাজুল আবির মেডিকেলটির কে-৭৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার সেশন ২০২১-২২। ছাত্রলীগের কমিটিতে কোনো পদ-পদবী না থাকলেও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতেন আবির।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগ মুহূর্তে হঠাৎ করে ছাত্রলীগের পক্ষে অবস্থান থেকে সরে আসেন মিনহাজুল আবির। তবে ৫ আগস্টের পরও ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠেকাতে চেয়েছিলেন তিনি।

তারা বলছেন, ৫ আগস্ট রাতে কে-৭৯ ব্যাচের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে একটি ম্যাসেজ দেন আবির। ওখানে তিনি বলেন, এখন আবার ছাত্রদলকে মোকাবেলা করতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি স্ক্রিনশটও পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢামেক ছাত্রদলের একজন নেতা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলে ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের অতীত ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ততার কারণে ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পাননি। এ অবস্থায় মিনহাজুল আবির কীভাবে ছাত্রদলের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পান?

জানতে চাইলে ‍ঢামেক ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিনহাজুল আবির দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি ২০২০ সাল থেকেই ছাত্রদল করি। কিন্তু পরে জোর করে আমাকে মিছিলে নিয়ে যাওয়া হত। ওই সময়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় বাধ্য হয়ে যেতে হত।

ছাত্রদলকে মোকাবেলা করতে চাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওই সময় অনেক বহিরাগত হল দখলের চেষ্টায় ছিল। আর আমি জাতীয়তাবাদের চেতনায় বিশ্বাসী একজন হিসেবে আমি বলেছিলাম তাদের মোকাবেলা করতে হবে। যদি ছাত্রদলের নামে কেউ অবৈধ হল দখলের চেষ্টা করে তবে তাদেরও প্রতিহত করতে হবে। একটা পজিটিভ ম্যাসেজকে যে কীভাবে নিগেটিভ বানিয়ে দেন আপনারা, আসলেই আশ্চর্য হই।