বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূ-গর্ভস্থে দায়িত্বরত ১৬৮ শ্রমিককে কর্মস্থলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় খনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।
গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে এসব শ্রমিক খনির অভ্যন্তরে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। তারা কর্তৃপক্ষের একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে কাজে যোগদান আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত খনির ভেতরেই অবস্থান করবেন বলে জানান।
আজ সোমবার দুপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির অভ্যন্তরে সরেজমিন দেখা যায়, শ্রমিকরা ওয়েলফেয়ার বিল্ডিংয়ের বারান্দায় বিক্ষোভ করছেন। তারা স্লোগান দিচ্ছিলেন, ‘কাজ চাই ভাত চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই’, ‘ অন্যায্য আদেশ প্রত্যাহার করো, করতে হবে’।
বিক্ষোভরত শ্রমিক নেতা বড়পুকুরিয়া কোল মাইন শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক লিটন, শ্রমিক নেতা ওসমা আলী, গোলাম নবী জানান, ১৬৮ জন শ্রমিকের মধ্যে সকলেই কয়লা খনি সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা। চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জেএসএমই'র অধীনে ৫ বছরের চুক্তিতে কাজ করে আসছেন তারা। চুক্তির মেয়াদ ২৭ সাল পর্যন্ত। কিন্তু কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকদের খনির ভূ-গর্ভস্থে যেতে বাধা দেন এবং খনি থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয় ।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে তারা বকেয়া বেতনের দাবিতে মিছিল-মিটিং করছেন। তাদের আন্দোলনে বকেয়া বেতন দিতে কর্তৃপক্ষ রাজি হলেও ভবিষ্যতে আর আন্দোলন না করার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে বলা হয়। শ্রমিকরা স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে কর্তৃপক্ষ ভূ-গর্ভস্থে তাদের কর্মস্থলে যেতে বাধা দেন।
তারা আরও বলেন, তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ দেওয়া না হলে কেন শ্রমিকরা খনি ত্যাগ করবে না? প্রয়েজনে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
তবে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শাহ আলম জানান ভিন্ন কথা। তিনি জানান, ১৬৮ জন শ্রমিক কাজ করছিল চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি/সিএমসি কনসোর্টিয়ামের অধিন্যস্ত সাব কন্ট্রাক্টর জেএসএমই'র নিয়োগকৃত শ্রমিক হিসেবে। চুক্তি অনুযায়ী জেএসএমই ৫৮০০ মিটার ট্যানেলের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর খনি ত্যাগ করার কথা। সাব কন্ট্রাক্টরের বিদেশি শ্রমিকরা সকলেই নিজ দেশে ফিরেও গেছে। বাংলাদেশি শ্রমিকদের তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করতে সাব কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে খনি কর্তৃপক্ষকে বলা হয়।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চুক্তি মোতাবেক কাজ সম্পন্ন করার পর তাদের কোনো লোকবল খনির ভেতরে থাকার আইনি অধিকার নেই। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোক হিসেবে পুনরায় কাজ শুরু হলে কর্মহীন এসব শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে নেওয়া হবে।