Image description
কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা

আধিপত্য বিস্তার, ময়লা বাণিজ্য ও ডিশ ব্যবসা দখল নিয়ে বিরোধের জেরে কাফরুলে যুবদলকর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সংস্থাটির দাবি, হত্যাকাণ্ডের মূল টার্গেট ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু এবং তাকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকা চুক্তিতে শুটারদের ভাড়া করেছিল একই থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. নাহিদ হাসান (২১), মো. শাফিন আহমেদ (২২), মো. জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মো. আলী হোসেন (৪৫), মো. জিহাদ মোল্লা (৩০), মো. মাসুম বিল্লাহ (২৮), চঞ্চল মোল্লা (৩৪) ও মো. আবির হাওলাদার (২৫)।

ডিবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল টার্গেট ছিলেন কাফরুল থানা যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবু। তবে পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান এবং গুলিতে নিহত হন যুবদলকর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজ। এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ। কাফরুল থানা আওয়ামী লীগ নেতা ডিএসপি বাবুর রেখে যাওয়া ডিস ব্যবসা দখল, জমি দখল, ফুটপাথের দোকান ও স্থানীয় ময়লা বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাফিজ এবং ২৫ লাখ টাকা চুক্তিতে ঝিনাইদহ ও মাগুরা থেকে ৪ পেশাদার শুটার ভাড়া করে আনে।

অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৯শে জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করে। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে এক হয়। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দু’টি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে মিসফায়ার হলে ওই দিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে পেশাদার খুনিরা ওইদিন বিশ্বকাপ খেলা দেখার অজুহাতে হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

পরবর্তীতে গত ২২শে জুলাই সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তারা আবার ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর ২৩শে জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে এক হয়। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দু’টি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সন্ত্রাসীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমরা তাদের সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচনা করছি। গ্রেপ্তারকৃতরা বলেছে, হাফিজুর রহমান (সিএনজি হাফিজ) তাদের ভাড়া করে এনেছিল।