প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যক্তির নাম যুক্ত করার সংস্কৃতির সমালোচনা করে সংসদে একটি অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সুনামগঞ্জের একটি কলেজের নামকরণ ঘিরে সেই গল্পের শেষাংশে তাঁর মন্তব্যে সংসদে অট্টহাসির সৃষ্টি হয়। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে এ ঘটনা ঘটে।
বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, সুনামগঞ্জে স্থানীয় জনগণ নিজেদের অর্থ ও শ্রমে একটি মানসম্মত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু সেটি এমপিওভুক্ত হচ্ছিল না। ঘটনাটি ১৯৯৬-২০০১ সালের সময়কার। এলাকার তৎকালীন মন্ত্রীর একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মাধ্যমে স্থানীয়রা বিষয়টি তাঁর কাছে তুলে ধরেন। তখন মন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত করে দেব, তবে প্রতিষ্ঠানের নামে আমার নাম থাকতে হবে।’
এ কথা শুনে এলাকাবাসী মন খারাপ করে ফেলেন। তাঁদের প্রশ্ন ছিল—সবকিছু তারা করলেন, আর শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের নাম হবে অন্য একজনের নামে? এটাকে কীভাবে ন্যায়বিচার বলা যায়? সমাধানের আশায় তারা পাকিস্তান আমলের এক প্রবীণ সরপঞ্চের কাছে যান। তিনি সব কথা শুনে বলেন, ‘যিনি মধ্যস্থতা করছেন, তাকে নিয়ে আসুন। তোমরাও থাকো, আমরা বসে কথা বলি।’
বৈঠকে সরপঞ্চ একটি সমঝোতার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় এত বড় একটি কাজ করে দিচ্ছেন, তাই তাঁর নাম থাকার ইচ্ছা থাকতেই পারে। আবার এলাকার মানুষেরও দাবি আছে। তাহলে এমন করা যায়—প্রতিষ্ঠানের নামে মন্ত্রীর নামও থাকবে, পাশাপাশি এলাকার নামও থাকবে।’
মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি প্রস্তাবটি নিয়ে মন্ত্রীর কাছে গেলে, প্রস্তাব শুনেই মন্ত্রী তাকে একটি চড় মারেন। হতভম্ব হয়ে তিনি জানতে চান, ‘আমি তো ভালো একটি প্রস্তাবই নিয়ে এলাম, আমাকে মারলেন কেন?’
তখন মন্ত্রী বলেন, ‘এলাকার নাম কী, সেটা কি খেয়াল করেছ? এলাকার নাম ‘পাগলা’। আমার নামের সঙ্গে যদি ‘পাগলা’ যুক্ত হয়—আগে বা পরে যেভাবেই বসানো হোক—সেটা হবে বিব্রতকর। এর প্রয়োজন নেই। ওরা তোমাকে জুতাপেটা করলেও আমি কলেজটি এমপিওভুক্ত করে দেব।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা যেন নামের পেছনে না দৌড়াই, কাজের পেছনে দৌড়াই। ব্যক্তির নাম নয়, মানুষের কল্যাণে করা কাজই যেন সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়।’