ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় সংঘটিত ‘গণহত্যার’ বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ীদের একদিন অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
স্থানীয় সময় রবিবার তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাকারিয়ায় ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একেপি) পার্টির এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এরদোয়ান এ মন্তব্য করেছেন।
বক্তৃতায় তিনি ২০২৪ সালে নিহত পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেছেন, গাজায় শিশু, নারী ও নিরীহ বেসামরিক মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রও হামলা থেকে রেহাই পায়নি। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে তুরস্ক তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
এরদোয়ান জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা নিপীড়িত মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। গাজায় যে গণহত্যা হয়েছে, এর জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’
এদিকে একই দিনে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোমান সাম্রাজ্যে আর্মেনীয়দের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে। তবে এটি কার্যকর হতে দেশটির পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী নেতা গিদেওন সার বলেছেন, আর্মেনীয় গণহত্যার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার বা খাটো করে দেখা হয়েছে। অন্যদিকে তুরস্ক বরাবরের মতোই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। আঙ্কারার দাবি, সে সময় সংঘাত ও যুদ্ধপরিস্থিতিতে আর্মেনীয় ও তুর্কি—উভয় পক্ষের মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল; ঘটনাটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কড়া সমালোচনা করে আসছেন এরদোয়ান। তিনি একাধিকবার ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র : ডেইলি সাবাহ