সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আমরা কি বিরোধী দলে ছিলাম না? আমরা রাজনীতি করার স্পেস পাইনি। আর এখন আপনারা সুখে শান্তিতে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে ঘরে ঘুমাচ্ছেন। এইটাই তো বেশি। আবার কিসের ভাগ চান, কিসের মাথায় উঠতে চান? একদম সোজা রাস্তায় হাঁটবেন, আরামে থাকেন, কোনো সমস্যা নাই। আপনারা আমাদের নেতাকর্মীদের দিকে বাঁকা চোখে তাকালে, আপনাদের খবর আছে। এটা মানা হবে না। আমি কোনোভাবেই টলারেট করবো না।
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় কুমারখালীর ডাকবাংলোয় উপজেলা, পৌর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমার নেতাকর্মী বঞ্চিত হচ্ছে। আমার নেতাকর্মী নির্যাতিত হচ্ছে। এটা আমি টলারেট (সহ্য) করব না। আপনাদের নির্যাতনের হুমকি দিচ্ছে যে প্রশাসন, যে প্রশাসন আপনাদের পাত্তা দিচ্ছে না, তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, কুমারখালী-খোকসাতে যদি থাকতে হয় তাহলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নাই।
তিনি বলেন, প্রশাসনকে আমরা বলবো না যে আপনি কারোর ফেভারে কাজ করেন। আপনি জনগণের সঙ্গে থাকবেন, জনগণের ভালোমন্দ চিন্তা করবেন। তাই বলে বিএনপিকে নির্যাতন করবেন, এটা আমি টলারেট করব না। আর আমি আপনাদের এটাও বলতে চাই, যদি প্রশাসন এই ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র করে, এখানে আপনাদের নির্যাতিত করতে চায়, তাকে এখানে রাখা হবে না। আমি বাধ্য হবো তার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে। আমার দায়িত্ব এটা।
প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমার নেতাকর্মী ২০ বছর নির্যাতিত হয়েছে। আমার নেতাকর্মী বঞ্চিত হয়েছে। আপনারা তো সুখেই ছিলেন। কেন এখন সেই আবার পুনরাবৃত্তি? কিসের আওয়ামী লীগ? আওয়ামী লীগতো ব্যান। সেই আওয়ামী লীগকে কেন মাথায় তুলে আপনারা নাচবেন? এটা হতে দেব না।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নওয়াব আলী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জিলাল, কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম লিপন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম আলম টমে, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী প্রমুখ।