বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গে। শুক্রবার গভীর রাতে ৩১ জনকে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের ফাটাপুকুরে তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে আসে প্রশাসন। সরকারি সূত্রের দাবি, ওই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং বাংলাদেশের নাগরিক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের।
প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী হোল্ডিং সেন্টারে রাখা ওই দলের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন মহিলা এবং ৯ জন শিশু রয়েছে। জানা গেছে, তাদের স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশের খুলনা জেলার কয়রা থানার মদিনাবাদ এলাকায়। বর্তমানে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে তাদের উপর। পরবর্তী প্রশাসনিক নির্দেশের অপেক্ষা করা হচ্ছে আপাতত। এক প্রশাসনিক আধিকারিকের বক্তব্য, আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হচ্ছে সমস্ত ব্যবস্থা। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার বিষয়টিকেও।
তবে গোটা ঘটনাকে ঘিরে কিছু মানবিক প্রশ্নও সামনে আসছে। নারী ও শিশু-সহ এত বড় একটি দলকে দীর্ঘ সময় ধরে হোল্ডিং সেন্টারে রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সীমান্ত এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, সীমান্তে যখনই উত্তেজনা তৈরি হয়, তখন তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে সাধারণ মানুষের উপর। অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক তৈরি হয় মানুষের মধ্যে।
রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়েছে। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক শ্যাম প্রসাদ অভিযোগ করেন, বহু বছর ধরে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি পরিচয়পত্র পাইয়ে দিয়ে ভোটের রাজনীতি করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি বদলানোর ফলে অনেকেই ফিরে যাওয়ার পথ খুঁজছেন।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে জলপাইগুড়ি জেলায় দু’টি হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়। এর আগে বসিরহাট এলাকা থেকে আনা একদল ব্যক্তিকেও রাখা হয়েছিল সেখানে। পরে ধাপে ধাপে তাদের সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে ফাটাপুকুরে থাকা ৩১ জনের ভবিষ্যৎ কী হবে, স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি সে বিষয়ে। তবে সীমান্ত পরিস্থিতির উপর প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।