চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর এমপি শাহজাহান চৌধুরীকে গুলি করার পরিকল্পনার একটি ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। এ পরিকল্পনায় অংশ নেন শাহজাহান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের পিএস আরমান উদ্দিন এবং অন্য প্রান্তে ছিলেন বালু ব্যবসায়ী তারেকুল হক। তিনি আরমানের ব্যবসায়িক পার্টনার। বৃহস্পতিবার রাতে এ রেকর্ডটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে। এরই মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ফাঁস হওয়া কল রেকর্ডটি এসেছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের হাতে। ২ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ওই অডিওতে তারেকুলকে বলতে শোনা যায় ‘লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করব কেন এসেছে? লোহাগাড়ার এমপি আরমান সাহেব, এখানে আরমান সাহেবের কথাই চলবে।’ জবাবে আরমানকে বলতে শোনা যায়, ‘এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি। তারপরও লোকজনের জ্বালায় আসে।’ একপর্যায়ে তারেকুল বলেন, ‘বাদশা খালেদের মতো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকব।’ জবাবে আরমান উদ্দিন বলেন, ‘এসব করলে পুলিশ আসবে, আর্মি আসবে, এমপি আসবে।’
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন শাহজাহান চৌধুরীর পিএস আরমান উদ্দিন। সরকার পতনের পর পরই সাতকানিয়া উপজেলার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রাইয়ান ট্রেডার্স’ এবং ‘রাইয়ান এন্টারপ্রাইজ’ দখলে নেয় আরমান ও তার লোকজন। লুট করে দুই প্রতিষ্ঠানের ৩৬ লাখ টাকার মালামাল। পরে তাকে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনার ‘শেল্টার’ দেওয়ার বিনিময়ে আরও ১৫ লাখ টাকা মৌখিক চুক্তি হয়। চুক্তির সম্পূর্ণ টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় আরমান উদ্দিনের নির্দেশে ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে বেধড়ক পিটুনি। দেওয়া হয় মামলা। মব করে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে আরমান। গঠন করে নিজের বাহিনী। তার বিরুদ্ধে অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, বালু ব্যবসা, ইটভাটায় চাঁদাবাজি, কথায় কথায় লোকজনকে শারীরিক নির্যাতন এবং নিজের পদবি ব্যবহার করে এলাকায় ‘ছায়া এমপি’ হিসেবে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। আরমান সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এলাকায় গেলে তাকে স্থানীয় জামায়াতের একাংশ সংসদ সদস্যের মতো ‘প্রটোকল’ দিয়ে থাকে, যা নিয়ে খোদ দলের ভিতরেও অস্বস্তি রয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া অডিওর বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ অডিওটি তদন্ত করতে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ জমা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে শাহজাহান চৌধুরী এবং আরমান উদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হয়। তাঁরা ফোন রিসিভ না করার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিএস আরমান উদ্দিনের সঙ্গে ফোনালাপে অংশ নেওয়া অপর ব্যক্তি তারেকুল হক স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের রশিদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পিএস আরমানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।