ফেনী শহরে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোনেম শাহরিয়ার চৌধুরী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেন।
মামলায় আসামিরা হলেন মো. জামিউল ইসলাম রাসেল (২০), ইসতিয়াক মাহমুদ শাওন (১৯), তাসফিরুল ইসলাম তাসফি (১৯), ইফতেখার আহমেদ ফাহিম (১৯), কাজী রশিদ আহম্মেদ রাব্বী (৩০), গালিব (২১), গোলাম রহমান জিলানী (৩৫), সাব্বির হোসেন ফাহিম (২৫), অয়ন (১৯) ও সায়মন (২২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) সকালে ফেনী পৌরসভার রেলস্টেশন সড়ক এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমদ চৌধুরী নাসিমের ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন। এ সময় তারা দলীয় বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখার পক্ষে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের জন্য একত্র হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। পরে স্থানীয়দের তথ্য, গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় কালিদহ ইউনিয়নের আলোকদিয়া এলাকার একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে চারজনসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে মিছিলের জন্য সমবেত হন। তাদের ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজীম বলেন, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।