Image description
ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সমাবেশ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সমাবেশের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার ফটিকছড়ি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা করে। মামলায় মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার এবং বাকি ২৭ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, বখতিয়ার সাঈদ ইরান, সাবরিনা চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম।

মামলার ৩ নম্বর আসামি সাবেক মেয়র মনজুর আলম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফটিকছড়ি থানা এলাকার আশেকানা মাইজভান্ডারী আস্তানার উত্তর পাশে নাজিরহাট-মাইজভান্ডার পাকা সড়কের ওপর এ মিছিল হয়। আস্তানাটি মেয়র মনজুরের মালিকানাধীন ছিলেন।

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানার এসআই জামাল হোসেন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশিরভাগই পালিয়ে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে জামান বাবু (২৩) ও সাইফুল ইসলাম সজিব (২৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, সাবেক মেয়র মনজুর আলম ও সাবেক ফটিকছড়ি উপজেলার সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিসহ পলাতক অন্য আসামিদের নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে এ মিছিল আয়োজন করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, মিছিলটি ছিল রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল এবং রাষ্ট্রের অবকাঠামো ধ্বংসের পরিকল্পনার অংশ।

মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ অন্তরালের পর এ বছরের শুরু থেকে তিনি আবারও রাজনৈতিক মাঠে আলোচনার কেন্দ্রে আসেন।

গত ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের কাট্টলি এলাকায় তার বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ খবর পেয়ে বাসার সামনে জড়ো হওয়া কিছু যুবক নিজেদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে মনজুরকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে হাসনাতকে প্রশ্ন করেন, তিনি কেন ওই বাসায় গেছেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে মনজুর আলমকে দলের নগর শাখার আহ্বায়ক এবং পরবর্তী সময়ে মেয়র পদে মনোনয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে দলে টানতে ব্যর্থ হয় এনসিপি। অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগে থেকেই দলটির নেতারা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে মনজুর আলম নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন এবং বাসা থেকেও সরে যান বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।

এ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই ফটিকছড়িতে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে যুক্ত হওয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মামলার বাদী ফটিকছড়ি থানার এসআই জামাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক মেয়র মনজুর, সাবেক ফটিকছড়ি উপজেলার সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিসহ পলাতক অন্য আসামিদের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে এ মিছিল আয়োজন করা হয়। মিছিলটি ছিল রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল এবং রাষ্ট্রের অবকাঠামো ধ্বংসের পরিকল্পনার অংশ।

বক্তব্য জানতে সাবেক মেয়র মনজুরকে একাধিকবার কল দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।