ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় উপজেলা বিএনপির এক নেতাকে জুয়ার আসরে দেখা গেছে— এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীনুর মল্লিক জীবন। সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি স্থিরচিত্রে তাকে জুয়ার আসরে উপস্থিত দেখা যায় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্দানিয়া বাজারটি ফুলবাড়ীয়া, ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে বাজারটির ব্যবসায়িক সুনাম থাকলেও গত এক বছরে সেখানে জুয়া, মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, সন্ধ্যার পর বাজারের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। জুয়ার আসর ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক ক্রেতা নির্ধারিত সময়ের আগেই বাজার ত্যাগ করেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের দক্ষিণ পাশে প্রায় প্রতিদিন রাতেই জুয়ার আসর বসে। কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
ভাইরাল হওয়া ছবিতে দুই ব্যক্তিকে তাস খেলায় অংশ নিতে দেখা যায়। তাদের সামনে পত্রিকা বিছিয়ে তার ওপর টাকা রাখা অবস্থাও দৃশ্যমান। এছাড়া ছবিতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে বসে থাকতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ও গোপনে জুয়ার আসর বসছে। কিন্তু এসব বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। জুয়ার কারণে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। শুধু আমাদের এলাকাই নয়, আশপাশের অনেক এলাকাতেই নিয়মিত জুয়া খেলা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহীনুর মল্লিক জীবন কালবেলাকে বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া বিষয়টি একটি স্থিরচিত্র কোনো ভিডিও নয়। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি তৈরি বা সম্পাদনা করা অত্যন্ত সহজ। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, সামাজিকভাবে সম্মানহানি করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সরাসরি মোকাবিলা করতে না পেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। একজন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।’
শাহীনুর মল্লিক জীবন আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে আমার সামনে বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। আমার রাজনৈতিক সম্ভাবনা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। কয়েক দিন আগেও আমার নামে আরও কিছু ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। এসব ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান কালবেলাকে বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ছবিটি আমার নজরে এসেছে। তবে ছবিটি কতদিন আগের এবং এর প্রকৃত ঘটনা কী, তা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। আমি সম্প্রতি এই থানায় যোগদান করেছি, তাই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছবিতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহীনুর মল্লিক জীবন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে ভাইরাল হওয়া ছবির সত্যতা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।