রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামের এক বৃদ্ধার গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর '৯৯৯'-এ প্রতিবেশীদের ফোন পেয়ে মিরপুর সেকশন-৬-এর সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের সচিব এবং অন্য ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। তবে তাঁরা কেউ মায়ের সঙ্গে থাকতেন না। বৃদ্ধা থাকতেন তাঁর মেয়ের বাসায়। অথচ একই ফ্ল্যাটের পাশের কক্ষে মেয়ে থাকলেও তিনি মায়ের মৃত্যুর খবর টের পাননি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যে ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি বৃদ্ধার মেয়ের। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে মেয়ে এবং অন্যটিতে মা থাকতেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, বৃদ্ধার কক্ষটির অবস্থা ছিল বসবাসের অযোগ্য। কক্ষজুড়ে ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে কক্ষটি পরিষ্কার করা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো ঘরজুড়ে ময়লা-আবর্জনা ও ছত্রাক জন্মেছিল। বিছানার ওপরই পড়ে ছিল বৃদ্ধার মরদেহ।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, মরদেহটিতে পচন ধরে মাংস খুলে পড়ছিল এবং পোকা ধরে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৭ থেকে ৮ দিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটে কোনো পুরুষ মানুষ ছিলেন না। বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে মা ও মেয়ে একসঙ্গেই এই ফ্ল্যাটে থাকতেন।
ওসি হাসান বাসির আরও জানান, 'বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা মারা যাওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘরে পচছিলেন, অথচ পাশের কক্ষে থেকেও তিনি কোনো গন্ধ পাননি কিংবা মায়ের খোঁজ নেননি— বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে।'
পুলিশ জানায়, রোববার মেয়ে তাঁর মাকে ডাকতে যান। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি ভাবেন মা অসুস্থ। পরে তিনি একজন নারীকে ডেকে আনেন। ওই নারী ঘরে ঢুকে বৃদ্ধার গলিত মরদেহ দেখতে পান এবং বাইরে এসে প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। এরপর স্থানীয়রা '৯৯৯'-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চপদস্থ ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলেও ছেলেরা মায়ের কোনো খোঁজখবর রাখতেন না। বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর পেয়ে বুয়েট শিক্ষক ছেলে ঘটনাস্থলে এলেও সচিব পদে কর্মরত অন্য ছেলে আসেননি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানানো হয়েছে।