হিজাব পড়ে ড্রাম বাজিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাজিয়া সামান্থা। সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গত ১৮ মে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অডিটরিয়ামে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নাজিয়া কালো নিকাব পড়ে ড্রাম বাজাচ্ছেন। তার সেই ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করছেন নেটিজনরা, দিচ্ছেন বাহবা, পাচ্ছেন প্রশংসাও।
নাজিয়া সামান্থা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
ড্রাম বাজানোর বিষয়ে বর্ণনা দিয়ে নাজিয়া সামান্থা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সংগীতের সঙ্গে আমার পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। বাবার হাত ধরেই মিউজিক লাইনে আসা আমার। ছোট থেকে বাবা আমাকে গিটার, ভায়োলিন, ড্রামস সবকিছুই শিখিয়েছেন। ওভাবেই মিউজিকের সঙ্গে আমার ইনভলভ হওয়া।’
তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের একটা ব্যান্ড আছে, নবজাত। ওদের সঙ্গেই আমি টুকটাক বাজাই। ওদের একটি প্রোগ্রামে আমি র্যান্ডমলি ড্রাম বাজাই। বাজানোর পর হঠাৎ করে দেখি এটা খুব ভাইরাল হয়ে যায়।’
সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাজিয়া বলেন, ‘আমরা ক্লাসে ছিলাম। আমার এক বন্ধুকে ওর ব্যান্ড মেম্বার জাওয়াদ কল করে বলে, একটা শো আছে, তুমি আসো। পরে আমরা সবাই যাই। সেখানে একজন টিচার আমাকে চিনতে পারেন। উনি বলেন, ‘তুমি তো পারো, তুমি একটু বাঁচাও তো।’ ওইভাবেই আমি স্টেজে উঠি। জাস্ট জ্যামিং করতেছিলাম। জ্যামিং করতে করতে ওরা গান ধরে ফেলে। নরমালি ওভাবে আমি বাজিয়ে দিই। তারপর হঠাৎ দেখি এটা খুব ভাইরাল হয়ে যায়।’
প্রথমবার এত পরিচিতি পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই অনেক ভালো লাগছে। কারণ এটা আমার ফার্স্ট টাইম। আমি ছোট থেকেই মিউজিকের সঙ্গে ইনভলভ। ড্রামসও আমার ইচ্ছা থেকে আমি বাজাই। হিজাবও আমার ইচ্ছায় করি। হিজাবটা করছি মূলত হজের কারণে, আর ড্রামস আমার শখ। হজ পালনের পর নাচসহ অনেক কিছু ছেড়ে দিলেও ড্রামসের প্রতি তার ভালোবাসা এখনও অটুট।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫ সালে হজ করি। হজের আগ পর্যন্ত আমি ড্যান্সও করতাম, রিং ড্যান্স করতাম। হজের পরে আমি সবকিছুই ছেড়ে দিই। কিন্তু ড্রামসের প্রতি আমার আলাদা একটা টান আছে।’