কাজটি ছিল কঠিন। অসম্ভবও। অতীতে কেউ পারেননি। উদ্যোগের কমতি ছিল না। তবু সাবেকদের খাতা ছিল শূন্য। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কাজটি করতে পেরেছিলেন সিলেটের পুলিশ কমিশনার, ডিসি ও সিটি’র প্রধান নির্বাহী। নগরের ফুটপাথকে তারা হকারমুক্ত করতে পেরেছিলেন। এতে সহযোগিতা করেছিলেন আরিফুল হক চৌধুরীও।
নির্বাচনের আগে আরিফুল হক চৌধুরীর এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকেই ট্রল করেছিলেন। তবু অনড় ছিলেন তিনি। চোখ-কান বন্ধ করে কাজটি করেন। ফুটপাথ ছেড়ে হকাররা লালদিঘীরপাড় মার্কেটে ফিরে গিয়েছেন। বাড়ানো হয়েছে সুবিধাও। এরপর থেকে পুলিশ অ্যাকটিভ। সড়কে হকারদের বসতে দিচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে হকাররা আন্দোলনে নেমেছেন। সড়কে ব্যবসার সুযোগ চান তারা। তাদের দাবি; বিকাল ৫টার পর যেন তাদের বসতে দেয়া হয়। এতে সায় নেই অনেকেরই। নগরবাসীর তো নয়ই। পুলিশ, জেলা প্রশাসন সবাই তাদের এই দাবির বিরোধী। এক বাক্যে ‘না’ বলছেন সিটি প্রশাসক কাইয়ূম চৌধুরীও। এই অবস্থায় দিনে দিনে হকারদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন দানা বাঁধছে বিভিন্ন মহলে। কেন হচ্ছে এটি- এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সিটি’র দায়িত্বশীলরাও। সিটি প্রশাসক কাইয়ূম চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন এই আন্দোলন। জবাবে তার সহজ উত্তর- ভেতরে কোনো রাজনীতি থাকতে পারে। এ সন্দেহ উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। যেটি সম্ভব নয়, সেটিই দাবি করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। নগরের মানুষ হকারমুক্ত ফুটপাথ চায়। এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তার সাফ কথা কোনোভাবে সড়কে হকারদের ‘অ্যালাউ’ করা হবে না। বিকল্প হিসেবে যেটি আছে সেটিকে আরও মডিফাই করা হবে।
হকারদের একাংশের সঙ্গে আলোচনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন- হকাররা বলেছেন মাঠে কিছু কাজ করা দরকার। আমরা সেটি মেনে নিয়েছি। একটি নতুন রাস্তা করার দাবি জানানো হয়েছে। সেটিও আমরা পরিকল্পনায় নিয়েছি। মাঠের সুবিধা বাড়ানো হবে। এদিকে- কয়েকদিন ধরে মাঠে সরব হকাররা। সর্বশেষ গত রোববার তারা রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করেছে। অবস্থানের পর সড়ক অবরোধ করা ছাড়াও বিক্ষোভ করে। আর সেটি করেছেন নগরের প্রাণকেন্দ্র কোর্ট পয়েন্ট, সিটি পয়েন্ট এলাকায়। জীবন ও জীবিকার স্বার্থে অন্তত বিকাল ৫টার পর ফুটপাথে ব্যবসা করার সুযোগ চেয়ে সিলেটে অবস্থান ধর্মঘট করেছেন হকাররা। অনেকের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ছিল, ‘হকার বাঁচলে, বাঁচবে দেশ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ’। হকাররা জানিয়েছেন- বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কারণে বহু পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের সময় হকারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে মালামাল জব্দ করা হয়। রোববারের ঘটনায় পুলিশ নীরবই ছিল। কোনো অ্যাকশনে যায়নি। তবে হকারদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে কৌশল অবলম্বন করেছেন নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। তারা হকারদের অবস্থান কর্মসূচিতে গিয়ে হাজির।
এ সময় সিলেট মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি হকারদের উদ্দেশ্যে বলেন- হকারদের দাবি নিয়ে আমরা সিলেটের মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করবো। একই কথা বলেন- নগর সম্পাদক এমদাদও। তাদের কথায় আশ্বস্ত হন হকাররা। সড়ক থেকে সরে দাঁড়ান। তবে হকারদের কর্মসূচিতে এই দু’নেতার উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল মানবজমিনের কাছে বিএনপি নেতাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন নগর সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। বলেছেনÑ হকাররা যখন সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল তখন প্রশাসন থেকে তাদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। হকারদের সরিয়ে দিতে তাদের ভূমিকা রাখার অনুরোধ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনিসহ নগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেখানে যান। হকারদের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন- বিষয়টি নিয়ে আমরা সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো।