Image description

ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির তিন নেতা পদত্যাগ করেছেন। আজ শনিবার বিকেলে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তারা সঠিক মূল্যায়ন হয়নি জানিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ সময় সাংবাদিকদের কাছে পদত্যাগপত্রের কপিও তুলে দেন। ১২ মে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা ছয় সদস্যের এই কমিটি ঘোষণা করেন।

নতুন কমিটিতে ইমরান হোসেনকে সভাপতি, শাহরিয়ার রাসেলকে সাধারণ সম্পাদক ও মেহেদী হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হিসেবে সাইদুর রহমান শাহেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুস সালাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বখতিয়ার মাহমুদের নাম জানানো হয়। তাদের আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়। 

‘পদবঞ্চিত ছাত্রনেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিলটি বের করেন। সেটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পায়রা চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন। সেখানে সাইদুর রহমান শাহেদ, আব্দুস সালাম ও বখতিয়ার মাহমুদ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

সাইদুর রহমান শাহেদ বিক্ষোভে বলেন, ‘দীর্ঘদিন আমরা আওয়ামী সন্ত্রাসী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছি। হামলা, মামলা, জেল জুলুমের শিকার হয়েছি। আজ যখন আমাদের দল সরকার গঠন করেছে, তখন দলের দুর্দিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পদায়নে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

ষড়যন্ত্র ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে জেলা ছাত্রদলের কমিটি দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শে আমরা বিশ্বাসী। যে কারণে আমরা বিশৃঙ্খলার পথে হাঁটিনি। গঠনমূলকভাবে প্রতিবাদ করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের কমিটি পুনর্বিবেচনা ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার দাবি জানাচ্ছি।’

নতুন কমিটিতে মেধা ও ত্যাগের মূল্যায়ন করা হয়নি অভিযোগ তুলে আব্দুস সালাম বলেন, ত্যাগী ও মেধাবীরা এভাবে ঝরে যেতে পারে না। 

বখতিয়ার মাহমুদ বলেন, ‘যাদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তাদের সিভি দেখুন; আমাদের সিভি দেখুন। রাজপথের ত্যাগ ও দলীয় কর্মসূচিতে আমাদের অবদান যাচাই করুন। এই কমিটি পকেট কমিটি। ঝিনাইদহের আপামর সাধারণ ছাত্র-জনতা এই কমিটি দেখে হতাশ হয়েছে।’

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের নতুন সভাপতি ইমরান হোসেন আজ রাতে সমকালকে বলেন, ‘ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি সব ধরনের খোঁজখবর নিয়ে ও তদন্ত করেই ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করেছে। অনেকের নানা ধরনের অ্যালিগেশনের ভিত্তিতে যোগ্যতা অনুসারে পদ-পদবি দেওয়া হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এখানে কাউকে অবমূল্যায়ন করা হয়নি।’