Image description

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাহসী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত তরুণ অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ। শনিবার এক শোক বিবৃতিতে সংগঠনটি তার মৃত্যুতে সমবেদনা জানায় এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তার ভূমিকার কথা স্মরণ করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে জাতির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাইয়ের সময়কালে কারিনা কায়সার নিপীড়ন, দমন-পীড়ন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন। যখন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই নীরব ও ফ্যাসিবাদের পক্ষে ছিলেন, তখন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক পরিসরে কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও সাহসী অবস্থান নিয়েছিলেন। তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করা, গণমানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান রাখার কারণে তিনি জুলাইয়ের একজন নির্ভীক কণ্ঠ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ আরও বলেছে, কারিনা কায়সারের অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিদ্রুপ ও অমানবিক আচরণের ঘটনা তারা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একই সঙ্গে আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, তার অসুস্থতার সময় ফ্যাসিবাদী ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিদ্রুপ ও অমানবিক হাস্যরস ছড়িয়েছে। একজন অসুস্থ মানুষকে নিয়েও যে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চর্চা করা হয়েছে, তা মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের অমানবিক আচরণ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, একইসাথে তা কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠনটির অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।’

সংগঠনটি মনে করে, কারিনা কায়সারের সাহসী অবস্থান ও মানবিক কণ্ঠ ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তার রূহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ।