Image description

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূল পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং ভোটারসংযোগ জোরদারের কাজ চলছে সক্রিয়ভাবে। জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি দল থেকে কোনো নারী প্রার্থী না থাকলেও সামনে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে মাঠে সক্রিয় দলটির মহিলা বিভাগ। সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, এমনকি সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও নারী কাউন্সিলর প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করার কাজ করেছে জামায়াত।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ অনেক এলাকায় অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, কোথাও কোথাও তা ৬০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, দিনাজপুর এইসব অঞ্চলগুলোতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলমান রয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী প্রস্তুত করেছে জামায়াত। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতেও সক্রিয়ভাবে প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় ইতিমধ্যে নারী প্রার্থীদের নামও চূড়ান্ত করা হয়েছে। সার্বিকভাবে এই প্রক্রিয়া অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রার্থী বাছাইয়ে দলটি সততা ও এলাকায় গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রচলিত রাজনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক সক্ষমতার বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত সততা ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চূড়ান্ত দিকটি অপেক্ষা করতে হবে। কেননা, এবারে স্থানীয় নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক। ফলে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এই প্রস্তুতি হঠাৎ কোনো উদ্যোগ নয় বলে জানিয়েছে দলটি। জাতীয় নির্বাচনের পর দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নারী প্রার্থী বাড়ানোর বিষয়ে একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

কিছু অঞ্চলে প্রার্থী গোছানোর কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো চূড়ান্ত হলেই ঘোষণা করা হতে পারে। প্রার্থী ঘোষণার সিদ্ধান্ত আগেই নেয়া হচ্ছে, যাতে ঘোষিত প্রার্থীরা জনসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে পারেন। এ ছাড়া প্রার্থীর নেতৃত্বে দলীয় অবস্থান সুসংহত করা এবং জনগণের আরও কাছে পৌঁছানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই প্রার্থী ঘোষণা করছে জামায়াত।
জামায়াত ও তাদের মহিলা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নারী-পুরুষ মিলিয়ে দলটির ১০ লাখের বেশি কর্মী রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ পুরুষ ও ৪০ শতাংশ নারী। মহিলা বিভাগের সদস্যরা তিনটি স্তরে বিভক্ত-সহযোগী সদস্য, কর্মী ও রুকন। রুকন সর্বোচ্চ স্তর। প্রায় অর্ধলাখ রুকন সদস্য রয়েছেন। কর্মী রয়েছেন প্রায় চার লাখ। এ ছাড়া সারা দেশে অসংখ্য সহযোগী সদস্য রয়েছে মহিলা বিভাগের।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরুষনির্ভর সংগঠন হিসেবে পরিচিত জামায়াতের এই নারী-কেন্দ্রিক উদ্যোগ কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তৃণমূলের নারী ভোটারদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

এসব বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম মানবজমিনকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে সারা দেশে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি, যাচাই বাছাই এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক সমন্বয়ের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, পুরুষ প্রার্থীদের মতো নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।