মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার যুবক রবিউল ইসলাম (৩৫) হত্যা ঘটনায় অবশেষে হত্যা মামলা রেকর্ড করেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা পুলিশ। তবে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন। ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ হত্যা মামলা নেয়নি বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।
উপায় না পেয়ে শনিবার সংস্কৃতিমন্ত্রী এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর কাছে বিচার চান নিহত রবিউলের পরিবার। মন্ত্রী মাগুরা মহম্মদপুর হাটবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে এলে নিহতের বাবা, স্ত্রী, শিশু সন্তানসহ কয়েকজন স্বজন তার শরণাপন্ন হন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) ও বোয়ালমারী থানার ওসিকে ফোন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। পরদিন রোববার রাতে রবিউল হত্যা ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রেকর্ড করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। নিহতের বাবা ছানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন।
নিহতের বাবা ছানোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে মোটরসাইকেলে করে হাটখোলারচরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে একটি ঘরে আটকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আমরা হত্যা মামলা দিতে গেলে পুলিশ নেয়নি। তারা বলেছে, এটা এক্সিডেন্ট মামলা দেন। পরে আমরা মন্ত্রীর কাছে গেলে তিনি পুলিশ সুপার (এসপি) ও ওসিকে ফোন করার পর হত্যা মামলা নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ৫ই মে বোয়ালমারী উপজেলার হাটখোলারচর এলাকায় রবিউল ইসলামকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে। হত্যার পর তার লাশ বস্তাবন্দি করে একটি প্রাইভেটকারে করে গুম করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. আনোয়ার হোসেন মানবজমিনকে জানান, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার রবিউল হত্যার ঘটনায় রোববার ৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যামামলা করা হয়েছে।