কাপাসিয়ায় ৫ জনকে হত্যার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ফরেনসিক বিভাগের প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নৃশংস। শনিবার সকালে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বহুতল বাড়ি থেকে মা, দুই মেয়ে, এক শিশুকন্যা ও এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং তিন শিশু মীম, হাবিবা ও ফারিয়া।
ফরেনসিক সূত্র জানায়, শারমিন, তার ভাই রসুল এবং দুই শিশুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে ছোট শিশুকন্যা ফারিয়ার মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক মাজহারুল হক জানান, হত্যার আগে ভিকটিমদের চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা, তা জানতে নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি’র পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে পেলে হত্যাকাণ্ডের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যেতে পারে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই নিহত শারমিনের স্বামী ফোরকান মোল্লা পলাতক রয়েছে। নিহতের বাবার করা মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবারের ভেতরের অশান্তি ও দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব থেকেই এমন ভয়াবহ পরিণতি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার চায় নিহত মিম এর সহপাঠী ও সর্বস্তরের জনগণ। এলাকাবাসী জানায়, এই ধরনের ঘটনা ইতিপূর্বে কাপাসিয়ায় কখনো ঘটেনি। এলাবাসীর প্রশ্ন, পরকীয়া বা টাকার জন্য যদি ফুরকান ক্ষোভে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে তার সন্তানদের হত্যা করলো কেন? তারা তো কোনো অন্যায় করেনি।
সরজমিন দেখা গেছে, কেউ জানালা ধরে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ বাড়ির সামনে বসে কাঁদছে। ১০/১২ জন শিক্ষার্থীকে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এরা নিহত নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিমের সহপাঠী।
স্থানীয় পাবুর গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন (৪৫) বলেন, আশা করি প্রশাসন খুব দ্রুতই মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করবে। আমরাইদ গ্রামের সিএনজিচালক সাখাওয়াত হোসেন (৫৫) বলেন, আমি ঘটনাস্থল দেখতে এসেছি। আমি নিজেও একজন চালক। শুনেছি অভিযুক্তও গাড়ি চালাতো। এমন ঘটনা আমাদের পুরো পেশাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার হাসান মোল্লার ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম ও সংস্থা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াই পাঁচজনকে জবাই করে হত্যা করেছেন। তবে কীভাবে একসঙ্গে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে’।