‘আল্লাহর নামে’ রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া একটি ষাঁড় জবাই করে মাংস বিক্রি করে দিয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শামসুল কবির ফরহাদ ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় তার দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন শামসুল কবির। একই অভিযোগে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন খানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দফতর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম খান বাপ্পি স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি ও সদস্যসচিব কামরুল আহসান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শামসুল কবির ফরহাদের দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হলো এবং ৪ নম্বর শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন খানের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল কবির গত ২৪ এপ্রিল সকালে ষাঁড়টি ইউনিয়নের আটহাজার গ্রামে বসে জবাই করেন। পরে কেজি দরে মাংস বিক্রি করে দেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে এরপর আরেকটি ষাঁড় কিনে এলাকায় ছেড়ে দেন শামসুল কবির।
এ নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল শামসুল কবিরের বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ষাঁড়টির মালিক চাঁদপুরা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের সোহেল হাওলাদার। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ষাঁড়টি আল্লাহর নামে তাদের ইউনিয়নের সিল দিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন।
সোহেল হাওলাদার বলেন, ‘ষাঁড়টি চাঁদপুরা ইউনিয়নের সিল মেরে আল্লাহর নামে ছেড়ে দিয়েছিলাম। যেটি হাঁটতে হাঁটতে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আটহাজার গ্রামে চলে যায়। সেখানে দীর্ঘদিন ছিল। এটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। গোপনে সেটি জবাই করে মাংস বিক্রি করে দিয়েছেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শামসুল কবির ফরহাদ। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিলে ৫০ হাজার টাকার একটি ষাঁড় কিনে তার ইউনিয়নের সিল দিয়ে ছেড়ে দেন। এ ঘটনায় আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করবো।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা বলেন, ‘শামসুল কবির ফরহাদের বিরুদ্ধে ষাঁড় বিক্রির লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর গত ২৭ এপ্রিল শামসুল কবির চেয়ারম্যানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেননি। পরে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় শামসুল কবিরের দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়। একইসঙ্গে অপর অভিযুক্ত শাহীন খানকে বহিষ্কার করা হয়।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শামসুল কবির ফরহাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেম্বার থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে একটি গ্রুপ আমার পেছনে লেগে আছে। এখানে কোনও অন্যায় কাজ করা হয়নি। আল্লাহর নামে ছেড়ে দেওয়া ষাঁড়ের দাম নির্ধারণ করে জবাই করে মাংস বিক্রি করেছে এলাকাবাসী। বিক্রির টাকা দিয়ে আরেকটি ষাঁড় কিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টিকে নিয়ে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।’
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ষাঁড়টি জবাই করে ৬০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করে দেন শামসুল কবির ও তার সহযোগীরা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নিজের অপরাধের দায় এলাকাবাসীর ওপরে চাপিয়ে দেন। এখানে কোনও এলাকাবাসী ছিল না। তার নির্দেশে ঘটনাটি ঘটেছে।