বিগত নির্বাচন আসলে জনগণের নির্বাচন ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ‘চুক্তি নির্ভর’ ও ‘ভাগাভাগির’ নির্বাচন। সরকারি দল ও বিরোধী দল নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির চুক্তি করে সংসদে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম।
শুক্রবার (০১ মে) বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতী ফয়জুল করীম বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, আশ্চর্য বিষয় হলো বিরোধী দল সংসদে দাঁড়িয়ে বলে তারা বিরোধী দল না। সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে আগে থেকেই চুক্তি হয়েছে কার কয়টি সিট হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামি আন্দোলনকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ থাকার কোনো সুযোগ নেই, সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি অবিলম্বে শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমিক কার্ড’ প্রবর্তনের দাবি জানান। সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে সমাবেশে বক্তারা বলেন, অর্থনীতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বদলে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া বিএনপি নির্বাচনে জেতার জন্য জুলাই সনদ নিয়ে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির আশ্রয় নিয়েছে বলেও সমাবেশে অভিযোগ করা হয়।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, বিরোধী দলের এক নায়েবে আমীর কোরআনী শাসনের জন্য সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন। আমি আশা করব তারা যেন সংসদে শরিয়াহ বা কোরআন-সুন্নাহর পক্ষে বিল উত্থাপন করেন। আর যদি সেই আইন পাশ না হয়, তবে তাদের সংসদ ত্যাগ বা ওয়াকআউট করা উচিত। তিনি বিরোধী দলকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একদিকে কোরআনের আইনের কথা বলা আর অন্যদিকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কথা বলা এই দ্বিচারিতা চলতে পারে না।
মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার ইস্যু নিয়ে চলমান বিতর্ককে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে এখন কে রাজাকার আর কে শিশু মুক্তিযোদ্ধা তা প্রমাণ করতেই সময় ব্যয় করা হচ্ছে। যারা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে কথা বলেন আবার ৭১-এর স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেন, তাদের এই দ্বিমুখী নীতি গ্রহণযোগ্য নয়। কার পরিবারে কে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তা স্পষ্ট করে জাতির সামনে প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, বরং ইসলামের জন্য রাজনীতি করে। ইসলামি আন্দোলন ইসলামের প্রয়োজনে ক্ষমতা ত্যাগ করতে পারে, কিন্তু ক্ষমতার জন্য ইসলাম ত্যাগ করতে পারে না। দেশে ইসলামি হুকুমত কায়েম করাই এই দলের মূল লক্ষ্য এবং এর জন্য তারা কাজ করে যাবে। অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।