Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মাঠে সরব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১-দলীয় জোট। বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে জোটের শরিক দলগুলো। মূলত জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচি দলগুলো। বিশেষ করে গত ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচিতে সরব হয়ে উঠেছে এ জোট। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদেও এসব বিষয়ে সরব রয়েছেন জোটের সংসদ সদস্যরা। জোট সূত্রে জানা যায়, জোটের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ চলছে।

 গত কয়েক দিনে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশালসহ ঢাকায় সমাবেশসহ বিশাল শো-ডাউন করেছে জোটভুক্ত দলগুলো। একই সঙ্গে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ, বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে জোটভুক্ত দলগুলো। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় সেমিনার ও পেশাজীবী সমাবেশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে জোটটি। এ আন্দোলনের মূলে রয়েছে জুলাই সনদ, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোট। গত বছরের ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে যে রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, তা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি তুলছে তারা। জামায়াত ও তাদের শরিক দলগুলোর অভিযোগ, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংস্কারের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। জোটের শীর্ষ নেতাদের মতে, সংবিধানের কোনো মৌলিক পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত বা ‘গণভোট’ নিতে হবে। এ ছাড়া আন্দোলনে শহীদদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি তাদের অন্যতম প্রধান দাবি।

জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি প্রদান এবং গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে রাজপথে সরব রয়েছে জামায়াতসহ ১১ দল। গত ৯ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী সারা দেশে লিফলেট বিলি, মহানগর ও জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় জাতীয় সেমিনার করেছে। এরপর গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়-সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে বৈঠকে বসেন ১১ দলের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১৮ এপ্রিল ঢাকায় গণমিছিলের পর ২৫ এপ্রিল জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে রাজধানীতে সমাবেশ করেছে। এরপর ২ মে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে সেমিনার এবং লিফলেট বিলি চলবে।

এই ১১-দলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিস এবং জাগপার মতো দলগুলো সক্রিয় রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ১৭৯টি আসনে এবং এনসিপি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নে এনসিপি এককভাবে সেমিনার ও লিফলেট বিতরণসহ জনসচেতনতা মূলক কর্মসূচি পালন করে আসছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে ১০ এপ্রিল দেশব্যাপী জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। একই সঙ্গে গত শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেছে দলটি। সমাবেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী মে, জুন ও জুলাই মাসব্যাপী সারা দেশের জেলায় জেলায় নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হবে।

 এসব সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন। আগামী ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল করা হবে। এ ছাড়া বর্তমান সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা সংবিধান সংস্কার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ইস্যুতে অত্যন্ত সোচ্চার। সংবিধান সংস্কার পরিষদে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এ ছাড়া সমসাময়িক জনদুর্ভোগ, যেমন- লোডশেডিং এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়েও সংসদে সরকারের কড়া সমালোচনা করছেন জোটের সংসদ সদস্যরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নসহ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট মাঠে সক্রিয় রয়েছে। যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবিগুলো মেনে না নেবে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আরও বৃহৎ কর্মসূচি নেওয়া হবে।