কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মহাসড়কে শক্তিশালী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকার সোমবার (২৭ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কোকেন পাচারকারী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চালানো এই হামলাটি গত কয়েক দশকের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র বরাতে এ খবর জানা গেছে।
আগামী ৩১ মে কলম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত সপ্তাহান্তেই দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত ৩১টি গেরিলা হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেড্রো সানচেজ জানান, শনিবারের ওই বিস্ফোরণে ২১ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৫৬ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে কালি এবং পোপায়ান শহরের সংযোগকারী প্রধান সড়কে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন নারী রয়েছেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার জন্য ‘ইভান মরডিস্কো’ এবং তার নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন। মরডিস্কো অধুনালুপ্ত বিদ্রোহী বাহিনী ‘ফার্ক’-এর একটি দলছুট অংশের প্রধান। তাকে দেশটির অন্যতম শীর্ষ অপরাধী হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মূল ফার্ক বাহিনী অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হলেও মরডিস্কোর নেতৃত্বাধীন অংশটি শান্তি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর উত্তরসূরি নির্বাচনের লড়াইয়ে এবার ‘নিরাপত্তাহীনতা’ এবং ‘বিদ্রোহী দমন’ প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ডানপন্থি প্রার্থীরা মাদক পাচারকারী গেরিলাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের চাপে গত কয়েক মাসে এই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানও পরিচালনা করেছে পেত্রো সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালে বোগোতার একটি নাইটক্লাবে ফার্কের বোমা হামলার পর এটিই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে বড় হামলা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি কলম্বিয়ার আসন্ন নির্বাচনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।