Image description

ফেনীতে ব্যবসায়ীদের আপত্তি উপেক্ষা করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেমের সুপারিশে তাঁত, বস্ত্র ও শিল্পমেলার অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত বুধবার শহরের মিজান রোডের শহীদ জহির রায়হান হল মাঠে বিতর্কিত এ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষনেতারা।

আবুল কাশেম আওয়ামী লীগের ফেনী পৌর শাখার সাবেক সহসভাপতি ও স্বৈরাচারী শাসনামলে একতরফাভাবে গঠিত ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহরের প্রাণকেন্দ্রে তাঁত, বস্ত্র ও শিল্পমেলা প্রস্তুতির শুরু থেকে ব্যবসায়ীরা বিরোধিতা করে আসছেন। মেলার অনুমতি না দিতে জেলা প্রশাসক মনিরা হকের কাছে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আবেদন করেন শহর ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল।

তাদের দাবি, ফেনীতে কয়েক মাস পরপর বিভিন্ন ধরনের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে করে ফেনীর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েন। এসব মেলায় মানহীন পণ্য বিক্রিসহ ফেনীর কোনো ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ বা স্টল নিতে পারেন না। মেলাগুলোতে স্টল ভাড়া নেওয়া ব্যবসায়ীদের সবাই বহিরাগত। কিন্তু ফেনী জেলার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স দেন। মেলার কারণে তারা ব্যবসায় হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

শহর ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ফেনী শহরের ব্যবসায়ীদের জন্য এ কথিত মেলা হুমকিস্বরূপ। বন্যা পরিস্থিতি, আন্দোলন সংগ্রাম ও নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য এখনো স্থিতিশীল হয়নি। এর মধ্যেই কয়েক মাস পরপর তাঁত, বস্ত্র ও শিল্পমেলার নামে ফেনীর বাইরের লোকজন এসে মানহীন এবং ঠকবাজি করে যাচ্ছে।

আগেও পতিত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সরকারদলীয় নেতা ও প্রশাসনের লোকজনের যোগসাজশে এ ধরনের মেলা আয়োজন করে ব্যবসায়ীদের সর্বনাশ করে। এটি বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এদিকে গত ৩০ মার্চ চেম্বারের পক্ষ থেকে আবুল কাশেম মেলা আয়োজনের সুপারিশ করেন। সুপারিশপত্রে উল্লেখ করা হয়, এএসটি করপোরেশন জেলা পরিষদ মালিকানাধীন শহীদ জহির রায়হান হলের মাঠে তাঁত, বস্ত্র ও হস্তশিল্প মেলা আয়োজনের জন্য চেম্বার অব কমার্সে আবেদন করে। ফেনী জেলা প্রশাসনের সম্মতিক্রমে ও শর্তাবলি মেনে এএসটি করপোরেশনকে মেলা আয়োজনের জন্য সুপারিশ করা গেল।

এ সময় যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবী, চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি ও স্টারলাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন, চেম্বারের পরিচালক মুশফিকুর রহমান পিপুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাঈদুর রহমান জুয়েল ও ছাত্রদল সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, চেম্বার অব কমার্স দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর। তাছাড়া সারাদিন বিদ্যুৎ সংকট এবং সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা, নানা কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। এ ধরনের মেলা তাদের জন্য ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতো।

এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, এখন ঈদ মৌসুম নয়। তাছাড়া মেলাটি শহরের একপ্রান্তে। এ মেলা চলমান থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন তিনি।