Image description

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন না করতে পারা নিয়ে পোস্ট দেন সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বুধবার (১৫ মার্চ) রাতে ফেসবুকে তিনি লিখেন, আজকে হাসনাতের সংসদে ‘আকুতি’ দেখে মনে পড়ল যে, রামগঞ্জ-লক্ষীপুরের উন্নয়নের জন্য ৪/৫ জন উপদেষ্টার কাছে গিয়েও কোনো হেল্প পাইনি। মাহফুজের পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন রাতেই লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম লেখেন, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম রামগঞ্জের উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছেন, বিষয়টি অজুহাত দিয়ে ঢাকা দেওয়া যাবে না।

যুগান্তরের পাঠকদের জন্য শাহাদাত হোসেন সেলিমের পোস্টটি হুবহু দেওয়া হলো-

‘মাহফুজ আলম— এই নামটি আমি আগে কখনো শুনিনি। তবে তার বাবা বাচ্চু মোল্লা, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন। আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে তিনি গ্রেফতার হলে আমি নিজ উদ্যোগে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে তাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করি।

ড. ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর একদিন বাচ্চু মোল্লার বাসায় সাংগঠনিক একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। সেদিন রাতেই টেলিভিশনে জানতে পারি, মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তখন আনন্দের সঙ্গে তার বাবাকে বলেছিলাম, ১০ কেজি মাংস ও ১০ কেজি আলু বেশি রান্না করতে।

বিশেষ সহকারী হওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যেই আমাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে প্রধান উপদেষ্টার এক বৈঠকে মাহফুজ উপস্থিত না থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করছিল। আমি তার সঙ্গে একটি ছবি তুলতে চাইলে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন এবং অত্যন্ত দৃষ্টিকটু আচরণ করেন— যা আমাকে বিস্মিত করেছে এবং সহকর্মীদের নিকট আমি অপমানিত হয়েছি।

উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ে রামগঞ্জের দৃশ্যমান উন্নয়নে তার কোনো অবদান চোখে পড়েনি। অথচ সে সময় তার হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা ছিল।

রামগঞ্জের উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ—এটা এখন আর আড়াল করার সুযোগ নেই। কথার ফুলঝুরি বা অজুহাত দিয়ে বাস্তবতা ঢেকে রাখা যায় না। রামগঞ্জের প্রতি তার কোনো বাস্তব আগ্রহ কখনোই দেখা যায়নি।’

এরআগে বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাহফুজ আলম অভিযোগ করেন, আজকে হাসনাতের সংসদে ‘আকুতি’ দেখে মনে পড়ল যে, রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের জন্য ৪/৫ জন উপদেষ্টার কাছে গিয়েও কোনো হেল্প পাইনি। তাদের সঙ্গে কয়েকবার দেখা করেছি। ডিও লেটার দিয়েছি। সেসব লেখার সময় এখনো আসেনি। এতটুকু বলতে পারি যে, একটি রাজনৈতিক দলের চাপে/সিদ্ধান্তে উনারা আমার এলাকায়/আমাকে কোনো সহযোগিতা করেননি।

তিনি আরও লিখেন, হাসনাত বলেছেন এলাকায় মুখ দেখাতে পারবেন না। আর, আমার মুখটা ঢেকে দিয়েছিলেন আমার সহকর্মীগণ! খোদা তাদের মঙ্গল করুন। অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে চলত, এটা নিয়ে কত মিথ্যা আর গুঞ্জন হলো। গুঞ্জন আর নানা হিসাবের বাইরে তো অনেক সত্য আছে!!

শেষে মাহফুজ বলেন, আমি যে মাদ্রাসায় ৮ বছর পড়েছি, যে মাদ্রাসা আমার বাবা লীগ কর্তৃক বেদখল হওয়া পর্যন্ত ১৫ বছর পরিচালনা করেছেন, সে মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়নি। কারণ, আমি একটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করেছিলাম। আমি তো ‘অযোগ্য’ উপদেষ্টাই বটে! আর, সে রাজনৈতিক দল নাকি ক্ষমতায় ছিল না। হাহা পায় যে হাসি!!